লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তা। ভেড়ার গাড়ি টানতে টানতে এগিয়ে চলেছেন কসাইখানার এক কর্মী। হঠাৎ খাঁচার ফাঁক গলে বেরিয়ে গেল ছোট্ট একটা ভেড়া। তাকে এদিক ওদিক ছুটতে দেখে ওই কর্মী দৌড়ে আসেন। পাকড়াও করে ফের কসাইখানায় নিয়ে যান। সেই দৃশ্য দেখে সবাই যখন হাসছে। তখন একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলের চোখে জল। হয়তো সে বুঝেছিল এটা মজা নয়, প্রাণ বাঁচানোর লড়াই। এই পরিণত মনের পিছনে অবশ্য দায়ী তার শৈশব। ছোটবেলা থেকেই সে বাবার ছোঁয়া পায়নি। বরং পেয়েছে একাকিত্ব, দুঃখ।
Advertisement
মা মঞ্চে গান গেয়ে রোজগার করতেন। একদিন মায়ের গলাও খারাপ হয়ে গেল। হঠাৎ মঞ্চে গান গাইতে শুরু করল ছেলেটি। তার গানে খুশি হয়ে বাবুরা পয়সা ছড়াল। কিন্তু তাতে দিন গুজরান অসম্ভব। তবুও জারি রইল বেঁচে থাকার লড়াই। একসময় মাও ছেড়ে গেল। সে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। আর হাজারো বৈষম্য, প্রশ্ন উঁকি মারছে তার মনে। তখন কেই বা জানত কাঁদতে থাকা একাকী ছোট্ট ছেলেটি একদিন গোটা বিশ্বকে হাসাবে। ব্যঙ্গের আড়ালে তুলে ধরবেন সমাজের নগ্ন চেহারা। ‘দ্য কিড’, ‘দ্য গোল্ড রাশ’, ‘সিটিলাইটস’, ‘মর্ডান টাইমস’, ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’... একের পর এক ছবিতে সমকালীন সমাজ ব্যবস্থা, রাজনীতি, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কাটাছেঁড়া করবেন। শব্দ হোক বা শব্দহীন, সিনেমার নিজস্ব যে একটা ভাষা রয়েছে তা বোঝাবেন। তিনি স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন।
১৯৭৭ সালে বড়দিনের সকালে ঘুমের মধ্যেই না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। মৃত্যুর কয়েকমাস পর একবার চুরি হয়ে যায় চ্যাপলিনের কফিন। পরে তা উদ্ধার হয় এক ভুট্টাক্ষেত থেকে। এই ঘটনার কথা স্মরণ করে বরেণ্য পরিচালক মৃণাল সেন একবার বলেছিলেন, ‘যদি ওই ভুট্টাক্ষেতের মালিক হতে পারতাম...।’ সত্যিই চ্যাপলিনকে কিছু শব্দে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব!
১৯৭৭ সালে বড়দিনের সকালে ঘুমের মধ্যেই না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। মৃত্যুর কয়েকমাস পর একবার চুরি হয়ে যায় চ্যাপলিনের কফিন। পরে তা উদ্ধার হয় এক ভুট্টাক্ষেত থেকে। এই ঘটনার কথা স্মরণ করে বরেণ্য পরিচালক মৃণাল সেন একবার বলেছিলেন, ‘যদি ওই ভুট্টাক্ষেতের মালিক হতে পারতাম...।’ সত্যিই চ্যাপলিনকে কিছু শব্দে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব!



