সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: একসময় সাইবারক্রাইম হলেই সবার আগে তদন্তকারীদের মাথায় আসত জামতাড়া গ্যাংয়ের নাম। পরে সেই জায়গা দখল করে রাজস্থানের ভরতপুর। এখন বাংলার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া দেশের অন্যতম সাইবার ক্রাইমের ‘হটস্পট’!
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: একসময় সাইবারক্রাইম হলেই সবার আগে তদন্তকারীদের মাথায় আসত জামতাড়া গ্যাংয়ের নাম। পরে সেই জায়গা দখল করে রাজস্থানের ভরতপুর। এখন বাংলার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া দেশের অন্যতম সাইবার ক্রাইমের ‘হটস্পট’!
তৃণমূলের আমলে ট্যাব কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে ছিল এই চোপড়ার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে ট্যাবের টাকা উধাও করে দিয়েছিল গ্যাংস অব চোপড়া। ব্যাপক ধরপাকড়ে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু রক্তবীজকে সম্পূর্ণ বিনাশ করতে পারেনি পুলিশ। এবার কেন্দ্রীয় স্কলারশিপের টাকাও উধাও করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই গ্যাংটির বিরুদ্ধে। রাজস্থান পুলিশ এই স্কলারশিপ কেলেঙ্কারিরতদন্ত শুরু করেছে। ইমরান আলি নামে চক্রের মূল পান্ডাকে ক’দিন আগেই তারা উত্তরদিনাজপুর থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চক্রটি ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল হ্যাক করে ২০২১-২০২২ এবং ২০২২-২৩ আর্থিকবর্ষে বহু পড়ুয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। রাজস্থান পুলিশ ১৫০ জন পড়ুয়ার আকাউন্ট থেকে টাকা টাকা তছরূপের অভিযোগে পেয়ে তদন্ত নামে। পরে তারা জানতে পারে আরও বহু ছাত্র-ছাত্রী তাদের প্রতারণার শিকার। বেশ কিছুদিন ধরে তদন্তের পর তারা উত্তর দিনাজপুরের ওই গ্যাংয়ের হদিশ পায়। তারা জানতে পারে, ইমরান আলি এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড। সে এভাবে বিভিন্ন সরকারি পোর্টালের টাকা তছরুপ করেছে। তার গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের খোঁজেও তদন্তকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছে।
সম্প্রতি রাজস্থান পুলিশ বর্ধমান থেকে এক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। তার আকাউন্ট সাইবার প্রতারকরা ভাড়া নিয়েছিল। বিভিন্নভাবে প্রতারণার টাকা তার আকাউন্টে জমা পড়ে। এক আধিকারিক বলেন, সাইবার প্রতারকরা এভাবেই আকাউন্ট ভাড়া নিয়ে টাকা হস্তান্তর করে। অ্যাকাউন্ট মালিকদের মোটা টাকা কমিশন দিয়ে তারা বাকিটা হাতিয়ে নেয়।
অ্যাকাউন্ট জোগাড়ের জন্য বিভিন্ন জেলায় এজেন্ট ছড়ানো রয়েছে। তারাই প্রলোভন দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেয়। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এবং ঝাড়খণ্ডের কিষানগঞ্জের সাইবার প্রতারকরা কখনই নিজেদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে না। মোবাইলের সিম কার্ডও তারা নিজেদের পরিচয়পত্র দিয়ে কেনে না। সেই কারণে খুব সহজে তাদের পাকড়াও করা সম্ভব হয় না। রাজস্থান পুলিশ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইমরানের গ্যাংয়ের সন্ধান পায়। দেড় বছর আগে চোপড়ার অন্য আর একটি গ্যাং এ রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাবের টাকা উধাও করে দিয়েছিল। তদন্তকারীরা সেই সময় জানতে পারেন, তারা প্রথমে পোর্টাল সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করে। শিক্ষাদপ্তরের কয়েকজন তাদের সহযোগিতা করেছিল। তথ্য পাওয়ার পর পোর্টাল হ্যাক করে। বেশ কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়ারা তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছিল। একইভাবে তারা ন্যাশনাল স্কলারশিপে টাকা উধাও করেছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।