Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুরেন্দ্রনাথে এবার উদ্ধার চপার, ছুরি ও তলোয়ার!

সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উদ্ধার হল চারটি তলোয়ার ও একটি ভোজালি। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্রের রহস্য নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিস্তারিত পড়ুন।

সুরেন্দ্রনাথে এবার উদ্ধার চপার, ছুরি ও তলোয়ার!
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উই ধরা টাকা ভরতি স্যুটকেস এবং আগ্নেয়াস্ত্রের পর এবার ভোজালি ও তলোয়ার মিলল সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। বইখাতা নয়, গোটা কলেজটাই তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে হয়ে উঠেছিল অস্ত্রের ভাণ্ডার। মঙ্গলবার বন্ধ ঘর থেকেই এই তলোয়ার ও ভোজালি উদ্ধার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মুচিপাড়া থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এগুলি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। ঘটনায় রীতিমতো  চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কলেজ চত্বরে। এই অস্ত্রশস্ত্র পলাতক তৃণমূল নেতা দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় রেখেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর খোঁজ মেলেনি এখনও।

Advertisement

দিনকয়েক আগে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। ইউনিয়নের দখলে থাকা ঘর থেকে মিলেছিল উইয়ে খাওয়া বান্ডিল বান্ডিল টাকা। এই নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতা দেবাশিষ ও তাঁর ছেলে শিবাশিষ এগুলি কলেজে রেখেছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে কলেজে বিরোধী রাজনীতিতে যুক্তদের এই আর্মস দেখিয়ে ভয় দেখাতেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক এই দুই অভিযুক্ত। ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন, এই কলেজ বহিরাগতদের আড্ডাখানা হয়ে উঠেছিল। অস্ত্র ও টাকা উদ্ধারের পরই কলেজ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঘরগুলিতে তল্লাশি শুরু করেছে। মঙ্গলবার অধ্যাপক সহ অন্যদের নিয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল কোন কোন রুম তালা দেওয়া রয়েছে, তা নিয়ে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁদের নজরে আসে, ইউনিয়ন রুমের কাছেই একটি ঘর তালা দেওয়া হয়েছে। তার চাবি কোথায় রয়েছে, খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু সেটি পাওয়া যায়নি। এরপরই ওই ঘরের তালা ভাঙা হয়। দরজা খুলে তাঁরা দেখেন কাপড়ে মোড়া অবস্থায় চারটি তলোয়ার, একটি ভোজালি ও ছুরি  রয়েছে। যা দেখে তাঁদের চোখ কপালে ওঠে। কলেজের ভিতর এগুলি কে নিয়ে এসে রাখল, তাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের ধারণা, অনেকদিন আগেই এগুলি রাখা হয়েছিল। কোনো বড়োসড়ো পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে যে এই অস্ত্রশস্ত্র এখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তাঁরা। প্রিন্সিপালের তরফে খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ এসে সব অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। তবে কলেজে এগুলি কী হত, তা নিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের মনে প্রশ্ন জেগেছে। তাঁরা অনুমান করছেন, তলোয়ার, ভোজালি হাঙ্গামার জন্য রাখা হয়েছিল।  উদ্ধার হওয়া অস্ত্র। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ