প্রতিবারের মতো এবারও এসেছেন দুলালি মা। আউশগ্রামের ভেদিয়া থেকে। তাঁকে নিয়ে আনন্দ আর ধরে না মঙ্গলকোটের সাগিরা গ্রামে। সেই আনন্দের পিছনে জড়িয়ে দুলালি মায়ের নানা কিংবদন্তি কাহিনি।
প্রতিবারের মতো এবারও এসেছেন দুলালি মা। আউশগ্রামের ভেদিয়া থেকে। তাঁকে নিয়ে আনন্দ আর ধরে না মঙ্গলকোটের সাগিরা গ্রামে। সেই আনন্দের পিছনে জড়িয়ে দুলালি মায়ের নানা কিংবদন্তি কাহিনি।
তখন কথায় কথায় কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিত গ্রামে। বহু মানুষ মারা পড়তেন। আচমকা একদিন দুলালি মায়ের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর লীলাতেই সবার কলেরা ভালো হয়ে যায়। সেই থেকে দুলালি মা হয়ে ওঠেন সাগিরা গ্রামের একান্ত আপনজন। গত ৫ মার্চ তিনি এসেছেন সাগিরায়। তাঁর আগমনে কিছুটা আগে থেকেই হোলি খেলায় মেতেছেন বাসিন্দারা। একে অপরকে রঙিন আবিরে রাঙিয়ে দিচ্ছেন ফাগুনকে সাক্ষী রেখে। কথিত, এই দুলালি মাকে ঘিরেই সাগিরার ‘ফাগ উৎসব’। শতাধিক বছর আগে মঙ্গলকোটের বহু গ্রামেই কলেরা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। সেই সময় সাগিরা গ্রামের বাসিন্দারা স্বপ্নাদেশ পেয়ে দুলালি মায়ের পুজো শুরু করেন। তাতে নাকি বাসিন্দাদের সব মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। কলেরা আর সেভাবে বেয়াড়া হয়ে উঠতে পারেনি। যাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন। তখন আউশগ্রামের ভেদিয়ার বুধুরা গ্রামে দুলালি মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মাকে এনে এই বসন্তে সাগিরা গ্রামে তিনদিন রেখে পুজো শুরু করেন গ্রামবাসীরা। শেষের দিন সারা গ্রাম ঘোরানো হয় দেবীকে। সঙ্গে চলে নাম সংকীর্তন।
মায়ের মূল উৎসব হয় চৈত্র মাসে। আর গ্রামে গ্রামে ঘোরানো শুরু হয় ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকে। বীরভূমের নানুর সহ পূর্ব বর্ধমানের বহু গ্রামে ঘোরানো হয়। সব গ্রামেই তিনদিন ধরে অনুষ্ঠান চলে। শেষের দিন ধূলোট হয়। সাগিরা গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে দুলালি মা খুবই জাগ্রত। আর সেই কারণে যাঁরা দূরে থাকেন, তাঁরাও এই ফাগ উৎসবে দেশের বাড়িতে আসেন। সবাই মিলে দোলের আগেই মেতে ওঠেন রঙের উৎসবে।