Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

চন্দ্রবদনা ও মহিয়ার সমাধি

চন্দ্রবদনা ও মহিয়ার সমাধি
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিন। সন্ত ভ্যালেন্টাইন্সের নয়, এটি অন্য এক ভালোবাসার কাহিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার কাদিরি শহর। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সেখানে রাজত্ব করতেন সামন্ত রাজা শ্রীরঙ্গরায়ু। ছোট সেই শহরে ছিল লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামীর মন্দির। প্রায়ই সেখানে যেতেন রাজকন্যা চন্দ্রবদনা। একদিন পারস্যের হীরা ব্যবসায়ী মহিয়ারের সঙ্গে দেখা হয় রাজকন্যার। প্রথম সাক্ষাতেই একে অপরের প্রেমে পড়লেন তাঁরা। দু’জনেই জানতেন এই প্রেম নিষিদ্ধ। কারণ দু’জনের ধর্ম, সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। তা সত্ত্বেও থেমে থাকেনি তাঁদের ভালোবাসার সফর। এরপর থেকে রোজই মন্দিরে দেখা করতেন তাঁরা। রাজকন্যা ও হীরা ব্যবসায়ীর সেই গোপন সাক্ষাতের সাক্ষী থাকতেন কেবল লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী। তবে সারাদিনে মাত্র একবার সাক্ষাতে মন ভরত না মহিয়ার। চন্দ্রবদনাকে চোখে হারাতে শুরু করলেন তিনি। মহিয়ার ইচ্ছা করত, চন্দ্রবদনার সঙ্গে সময় কাটাতে। উপায় কী? ভাবতে ভাবতে একদিন রাজ প্রাসাদের সামনে পৌঁছন মহিয়ার। বিপদের কথা চিন্তা না করেই পৌঁছে গেলেন সিংহদুয়ারে। কেবল এক ঝলক চন্দ্রবদনাকে দেখতে। সিংহদুয়ারে নিযুক্ত রক্ষীরা বাধা দেন তাঁকে। রক্ষীরা জানিয়ে দেন, কোনও হীরা ব্যবসায়ী এভাবে রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে প্রবেশের অনুমতি পান না। মহিয়ারও নাছোড়বান্দা। চন্দ্রবদনার সঙ্গে দেখা না করে তিনি যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। রক্ষীরা ভাবেন, এ নিশ্চয়ই পাগল! ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন তাঁকে। অসম্মানিত মহিয়ার প্রাসাদের দেওয়ালেই মাথা ঠুকতে থাকেন। রক্তক্ষরণে সেখানেই মারা যান। খবর পৌঁছয় চন্দ্রবদনার কাছে। ছুটে যান ভালোবাসার মানুষের মরদেহের কাছে। শোকগ্রস্ত চন্দ্রবদনা সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। রাজা শ্রীরঙ্গরায়ু বুঝতে পারেন, ধর্মীয়-সামাজিক যাবতীয় বাধার কাঁটাতার পেরিয়েছিল তাঁদের ভালোবাসা। সমাজের রীতিকে লঙ্ঘন করে রাজা সিদ্ধান্ত নেন, পাশাপাশি কবর দেওয়া হবে চন্দ্রবদনা ও মহিয়ার দেহ। সেখানে একটি যৌথ সমাধিও নির্মাণ করেন রাজা। আজও চন্দ্রবদনা ও মহিয়ার সমাধি শাশ্বত প্রেমের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাদিরি শহরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক সীমা অতিক্রম করে ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই লোককথা।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ