Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চলল ফের অভিযান, রবীন্দ্র সরণি লাগোয়া রমেশ দত্ত স্ট্রিট দখলমুক্ত

চলল ফের অভিযান, রবীন্দ্র সরণি লাগোয়া রমেশ দত্ত স্ট্রিট দখলমুক্ত
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গিরিশ পার্ক অঞ্চলের রবীন্দ্রকানন পার্ক লাগোয়া লোহাপট্টির রাস্তা দখলমুক্ত করতে ফের অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভা। সোমবার দুপুরে ঝুপড়ি সহ ফুটপাতের উপর তৈরি ক্লাবের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যার জেরে সেখানকার বাসিন্দারা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। যদিও, পুলিস তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এদিন ঘটনাস্থলে এক পুরকর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হবে বলে জানিয়েছে পুরসভার জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
Advertisement
হেদুয়া থেকে মিনার্ভা থিয়েটার ছাড়িয়ে কিছুটা এগলেই বাঁদিকে পড়বে একটি গলি। সেই পথ ধরে একটু এগলেই ডানদিকে বহু পুরনো রবীন্দ্রকানন পার্ক। সেই পার্ক লাগোয়া রমেশ দত্ত স্ট্রিট ধরে আবার রবীন্দ্র সরণিতে ওঠা যায়। এই রমেশ দত্ত স্ট্রিটের একদিকে রয়েছে লোহাপট্টি। রয়েছে একের পর এক লোহার সরঞ্জাম ও ছাট লোহার দোকান, গুদাম। অন্যদিকে, রমেশ দত্ত স্ট্রিট ও রবীন্দ্র সরণির সংযোগস্থলের দিকে এগলে দেখা যাবে, রাস্তার ডানদিক পুরোপুরি দখলদারদের হাতে। রাস্তার একাংশ দখল করে তৈরি হয়েছে একের পর এক ঝুপড়ি। ওই পথ দিয়ে পথচারীদের হেঁটে যাওয়াই দায়। গোটা এলাকা নোংরা, আবর্জনায় ভরপুর। সারাক্ষণ দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। প্রায় ৫০ ফুট রাস্তার অর্ধেক দখল হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল পুরসভা। রীতিমতো পে-লোডার দিয়ে রাস্তার উপরে থাকা কংক্রিটের নির্মাণ ভাঙা হয়। পাশাপাশি, রাস্তার দু’দিক মিলিয়ে তিন-চারটি ঝুপড়িও ভেঙে দেওয়া হয়। তবে, ওই দিন পুরো কাজ না হওয়ায় এদিন ফের অভিযান চালায় পুরসভা। পুলিসও মোতায়েন করা হয়।
জানা গিয়েছে, সেখানকার বাসিন্দারা সকলেই বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা। তাঁরা কর্মসূত্রে থাকেন কলকাতায়। এদিন উচ্ছেদ আটকাতে সেখানকার বাসিন্দারা গিরিশ পার্কে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। যার জেরে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। যদিও, পুলিস সেখান থেকে দ্রুত ভিড় সরিয়ে দেয়। 
স্থানীয় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রশাসন আইন অনুসারে পদক্ষেপ করেছে। এখানে আমার কিছু করার নেই।’ রাস্তা দখল করে এখানে একটি ক্লাব তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ক্লাবের একাংশ ভাঙা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত ও রাস্তায় মালপত্র রাখা বন্ধ হোক। রাস্তা দখল করে সংসার চলছে, সন্ধ্যা নামলেই সেখানে নেশার আসর বসছে। এবার সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী।
সম্পর্কিত সংবাদ