হরিসাধন দাশগুপ্ত তথ্যচিত্রের জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে। লস এঞ্জেলেস শহরে সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র নির্দেশনা নিয়ে পড়াশুনা করছিলেন তিনি। সেখানে হলিউড পরিচালক আরভিং পিচেলের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। আলাপের সূত্র—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন হরিসাধন। এরপর দু’টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিলেন। সেগুলি হল কমললতা ও একই অঙ্গে এত রূপ। উত্তম-সুচিত্রার কমললতা হিট হলেও চলেনি সৌমিত্র-মাধবী-বসন্ত অভিনীত একই অঙ্গে এত রূপ। অথচ হলিউড ঘরানায় ছবিটি তৈরি করেছিলেন তিনি। আসলে বাঙালি দর্শক তখনও হলিউড মেনে নিতে পারেনি। একসময় রবীন্দ্রনাথের ঘরে বাইরেকেও হলিউড ঘরানায় তৈরির ভাবনায় ছিলেন তথ্যচিত্রের জনক। কিন্তু পাঁকেচক্রে হয়নি। হলে হয়তো বাংলা ছবির ইহিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। তাঁর তৈরি তথ্যচিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পাঁচথুপি: আ ভিলেজ ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’, ‘প্যানোরোমা অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’ প্রভৃতি। টাটা স্টিল প্রযোজিত একটি তথ্যচিত্র দ্য স্টোরি অব স্টিলের চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সত্যজিত্ রায়। ১৯৪৭ সালে তিনি সত্যজিত্ রায়, চিদানন্দ দাশগুপ্ত, সুনীল জানা প্রমুখদের সঙ্গে ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটি গঠন করেন। ভারতীয় সিনেমায় পথের পাঁচালীর যে ভূমিকা, তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রে সেই একই প্রভাব দ্য স্টোরি অব স্টিলের। সত্যজিতের পথের পাঁচালী নির্মাণে পরোক্ষ ভূমিকা ছিল হরিসাধনেরও। ১৯৫১ সালে কলকাতায় শ্যুটিংয়ের জন্য আসেন জঁ রেনোয়া। তাঁর সঙ্গে কাজ শুরু করেন তথ্যচিত্রের এই দিকপাল।



