নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের জন্য রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে সেই মহিলারা বিয়ের সময় এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান পান সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকার লোভে চাকরির কথা গোপন করে আবেদন জানালেন এক ব্যাঙ্ক কর্মী। তবে শেষ পর্যন্ত তদন্তে ফাঁস হয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীর অনিয়ম। তিনি কোথায় চাকরি করেন, কত টাকা বেতন পান, এই সমস্ত তথ্য হাতে পেয়েছে প্রশাসন। তাই বাতিল করা হয়েছে আবেদন। কিন্তু গরিবদের জন্য প্রকল্পে কেন আবেদন জানালেন? প্রশাসনের আধিকারিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ব্যাঙ্ককর্মীর জবাব—‘আমি জানতাম না স্যার, ভুল হয়ে গিয়েছে।’
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব বিবাহযোগ্য মহিলার পরিবারিক আয় বছরে দেড় লক্ষ টাকার কম, কেবলমাত্রই তাঁরাই আবেদন করতে পারবেন এই প্রকল্পে। সেই সঙ্গে পাত্রী ও পাত্র দু’জনকেই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিবাহযোগ্য হতে হয়। কেবলমাত্র প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেই আবেদন করা যায়। তা জমা পড়ার পর তদন্ত হয়। সব ঠিক থাকলে পাত্রীর অ্যাকাউন্টে সরাসরি এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেয় সরকার। ওই ব্যাঙ্ক কর্মী সল্টলেক সেক্টর ফাইভে কর্মরত। তাঁর বাড়ি নিউটাউনে। ২০ নভেম্বর তিনি বিধাননগর পুরসভার রূপশ্রীর দপ্তরে গিয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে পুরসভা তদন্ত শুরু করে। তাতে দেখা যায়, ওই তরুণী চাকুরিজীবী। বছরে তাঁর একারই আয় দেড় লক্ষ টাকার উপর। ফলে সরকারি নিয়ম ভেঙে তিনি আবেদন করেছেন। তারপর দপ্তরের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট দেখে রূপশ্রী প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা ওই ব্যাঙ্ক কর্মীর আবেদন বাতিল করে দেন। অন্যদিকে, বুধবার সল্টলেক সিএফ ব্লকে এক গরিব তরুণীর বিয়ে ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারপর দপ্তরের কর্মীরা তাঁর বাড়ি গিয়ে কনের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করেন। শুধু তাই নয়, এদিনই তদন্ত করে মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে আবেদন মঞ্জুরও হয়ে গিয়েছে। তাতে মুখে হাসি ফুটেছে ওই পরিবারের মুখে।



