নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ত্রাণসামগ্রী ফিরিয়ে দিতে চেয়ে বললেন, ‘আমার কাছে এখনও কিছু সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে। সেগুলি বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেব।‘ শংকরবাবু পাল্টা বললেন, ‘এভাবে সরকারি সামগ্রী ফেরানো যায় না। তৃণমূল যা ইচ্ছে তাই করেছে। আমাদের আমলে সরকারি নিয়মের বাইরে কিছুই হবে না। উনি সরকারি নিয়ম মেনে ফেরত দিন।’ রাজ্যজুড়ে যখন বেআইনিভাবে ত্রাণসামগ্রী মজুত নিয়ে অশান্তি, ধরপাকড় ইত্যাদি চলছে তখন বারাসতে উলটো ছবি।
বারাসতে জিতে তিনবার বিধায়ক হন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। সেই সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি ত্রাণ এসেছিল। তিনি এবার নির্বাচনে প্রার্থী হননি। বারাসত কেন্দ্রও তৃণমূলের হাতছাড়া। বর্তমানে বিধায়ক বিজেপির শংকর চট্টোপাধ্যায়। সামনেই বর্ষা। কিছু ত্রিপল এবং শাড়ি এখনও রয়ে গিয়েছে। সেগুলি মানুষের কাজে লাগতে পারে ভেবে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিরঞ্জিত। তিনি বলেন, ‘এগুলি মানুষের কাজে লাগতে পারে। তাই শংকর চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। উনি যদি সেগুলি নিতে না চান, তাহলে জেলাশাসকের কাছে জমা দিয়ে দেব।’ শংকরবাবুর বক্তব্য, ‘বিষয়টি এত সরল নয়। সরকারি ত্রাণসামগ্রী ফেরত দেওয়ার আগে তার উৎস, পরিমাণ এবং বণ্টনের হিসাব স্পষ্ট হওয়া দরকার। উনি এতদিন পর কেন ত্রাণ ফেরত দিতে চাইছেন? কত সামগ্রী রয়েছে, কোন দপ্তর থেকে নেওয়া হয়েছে, কতটা বিতরণ হয়েছে আর কত বাকি আছে, সে সব তথ্য জানা নেই। সরকারি ত্রাণ ফেরতের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। আসলে এর পিছনে অন্য কিছু আছে বলেই আমার মনে হয়।’ সবমিলিয়ে চিরঞ্জিতের ফোন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক।
সাম্প্রতিক সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি কিংবা পঞ্চায়েত কর্তাদের কাছে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। সেই আবহে বারাসতের এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কাড়ছে। জানা গিয়েছে, বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার সরকারি ত্রাণসামগ্রী মহকুমা শাসককে ফিরিয়ে দিয়েছেন।