


সুকান্ত বেরা, চেন্নাই: দুপুর থেকেই চিপকের রাস্তায় ঢল নেমেছে নীল জনতার। কেউ পরেছেন সূর্যকুমার লেখা জার্সি। কেউ আবার হার্দিক পান্ডিয়া। বাবার হাত ধরে বছর আটেকের ঋষভ তেরঙ্গা নাড়াতে নাড়াতে এগিয়ে চলেছে গ্যালারির দিকে। বুমরাহদের হয়ে গলা ফাটাতে।
এই দৃশ্য নতুন আর কী! দেশের যে প্রান্তেই টিম ইন্ডয়ার খেলা থাকে, সেখানেই দেখা যায় আবেগের বিস্ফোরণ। তবে চেন্নাই কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমী। সূর্যদের বিশ্বকাপ সরণিতে খুঁজে পাওয়া গেল ধোনিকেও। নীল জার্সির সঙ্গে সমানে পাল্লা দিল হলুদ রংয়ের সাত নম্বর জার্সি। পিছনে লেখা ধোনি। চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকদের কাছে যিনি ঘরের ছেলে ‘থালা’। প্রিয় ক্রিকেটারকে এভাবেই তাঁরা ভালোবাসায় বন্দি করেছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের নিখাদ সম্পর্ক আজও অটুট। চেন্নাইকে পাঁচবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার আসল কারিগর তো মাহি। তাই অজান্তেই সিএসকে আর ধোনি নামটা হয়ে উঠেছে একে অপরের পরিপূরক।
বিশ্বকাপের পরেই আইপিএল। খুব সম্ভবত ২৬ মার্চ ঢাকে কাঠি পড়বে কোটিপতি লিগের। আর গত কয়েক বছর ধরে আইপিএল এলেই যে বিষয়টা চায়ের কাপে তুফান তোলে, ধোনি খেলবেন তো? ভারত-জিম্বাবোয়ে ম্যাচ দেখতে এম করুণানিধি স্ট্যান্ডে প্রবেশের সময় দেখা হল এক সিএসকে কর্তার সঙ্গে। ধোনির প্রসঙ্গ উঠতেই মুচকি হেসে বললেন, ‘আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। চিপকে দলবল নিয়ে প্র্যাকটিসে নেমে পড়বে থালা।’
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, এভাবে আর কতদিন? গত দু’বছর ধরে জল্পনাকে উড়িয়ে হলুদ জার্সি পরে নেমেছেন মাহি। তবে ব্যাটনের হাত বদলের নীল নকশাও তৈরি। সিএসকে কর্তারা অবশ্য এখনই ধোনিকে ‘বিদায়’ জানাতে নারাজ। খেলা ছাড়লেও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে মাহিকে। তাই সঞ্জুকে আনা। তাঁকেই এমএসডি’র বিকল্প হিসেবেও ভাবা হচ্ছে। তবে এই চর্চা এখন অমূলক। আপাতত ধোনিকে ঘিরেই ছাব্বিশের আইপিএলে চিপকে শোনা যাবে ‘হুইসেল পোডু’।