


বেঙ্গালুরু, ৮ জুন: বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামীতে পদপিষ্টের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ঘরে ও বাইরে চাপে কর্ণাটক সরকার। দীর্ঘ ১৭ বছরের পর আইপিএলের ট্রফি ঘরে তুলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সেই জয়ে মাতোয়ারা ছিল গোটা আরসিবি শিবির। ট্রফি জয়ের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন বিরাট কোহলি। তাই গত বুধবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রাখা হয়েছিল বিধান সৌধ(বিধানসভা) ও চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। আর সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে গিয়েছিল বিপত্তি। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্টের জেরে মৃত্যু হয় ১১ জনের। যাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। এই মৃত্যুর দায় কার? ইতিমধ্যেই দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে।
কর্ণাটক সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে মামলা শুনছে কর্ণাটক হাইকোর্টও। কিন্তু একটা জয়ের মুহূর্ত বিষাদে পরিণত হওয়ার আগে কী আটকানো যেত না? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরই মাঝে একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। যেটি ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস’-এর সচিব জি সত্যবতীকে গত ৪ঠা জুন লিখেছেন বেঙ্গালুরু পুলিসের ডেপুটি কমিশনার(বিধানসভার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান) এমএন কারিবাসভন গৌড়া। সেই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বিধান সৌধ(বিধানসভা) ও চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়ো হবেন। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা কম, ফলে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠবে।
আরসিবির দেশজুড়ে সমর্থক রয়েছে। বিধান সৌধতে অনুষ্ঠানে পৌঁছতে পারেন বহু সমর্থক। সেখানে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নেই। তাই দয়া করে অনলাইন ও অফলাইন এন্ট্রি পাস বিতরণ করা বন্ধ করে দিন। সরকারি কর্মচারীদের পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান যেতে নিষেধ করুন। প্রয়োজনে দুপুরের পর অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করে দিন।’ এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পুলিসের তরফে রাজ্য সরকারকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কেন এত বড় ইভেন্টের আয়োজন করা হল। পুলিসের আশঙ্কা ছিল পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। তারপরেও রাজ্য সরকার জোর করেই আরসিবির সংবর্ধনার অনুষ্ঠান করল! খোদ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছিলেন প্রায় ২.৫ লক্ষ বা তার বেশি ক্রিকেটপ্রেমী এসেছিলেন। এতজন আসবেন সেই ধারণা তাঁদের ছিল না। সঙ্গে দুটি আলাদা জায়গায় অনুষ্ঠান করায় পর্যাপ্ত পুলিসি নিরাপত্তার ঘাটতি হয়ে যায়।
আদালতে কর্ণাটক সরকার জানায় মাত্র ১ হাজার পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল সেদিনের অনুষ্ঠানের জন্য। এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এতগুলি মৃত্যুর দায় কার? পুলিসের কথা শুনলে হয়তো ১১ জনের মৃত্যু ঠেকানো যেত। চিন্নাস্বামীতে পদপিষ্টের ঘটনায় একজন আরসিবির কর্তা সহ গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। নৈতিক দায় নিয়ে কর্ণাটক ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই কর্তা। বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। তদন্ত করছে পুলিস।