


বেঙ্গালুরু, ৫ জুন: জয়ের আনন্দ মিশে গিয়েছে মাটিতে। কর্ণাটকজুড়ে এখন শুধুই বিষাদের সুর। ১৭ বছরের অপেক্ষার পর আইপিএলের ট্রফি ঘরে তুলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আর সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। আইপিএল ট্রফি জয়ের উন্মাদনা গতকাল, বুধবার বাঁধনছাড়া হয়ে আছড়ে পড়েছিল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। সেলিব্রেশনের জন্য স্টেডিয়ামের গেট খোলামাত্রই অসংখ্য মানুষ ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে বলপ্রয়োগ করে পুলিস। তাতেই ঘটে বিপত্তি। বিরাটদের ‘জয়োৎসব’ মুহূর্তে বদলে গিয়েছে বিষাদে। হুড়োহুড়ির জেরে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১১ ক্রিকেটপ্রেমী। আহতের সংখ্যা বহু। মৃতদের মধ্যে অনেকেই তরুণ-তরুণী, এমনকী নাবালকও রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় কর্ণাটক সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে বিরোধী দল বিজেপি।
এরই মাঝেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের পদপিষ্টের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। মামলা দায়ের হয় আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরেই শুনানি হয় আদালতে। সেখানে কর্ণাটক সরকার জানায় এত সংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমীরা এসেছিল, মোতায়েন করা হয়েছিল এক হাজার পুলিস। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ছিলেন বেঙ্গালুরুর সিপি, ডিসিপি ও এসিপি। প্রচুর জলের ট্যাঙ্ক, অ্যাম্বুলেন্স, কমান্ড ও কন্ট্রোল ভেহিক্যালও ছিল স্টেডিয়ামের কাছে। যদিও কর্ণাটক সরকারের বিবৃতি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ গতকাল, বুধবার রাতেই কর্ণাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোট পাঁচ হাজার পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্ট কর্ণাটক সরকারের কাছ থেকে তলব করেছে আদালত। আগামী ১০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। সূত্রের খবর, কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ দলও গঠন করা হবে। যদিও কর্ণাটকের মন্ত্রী এইচ কে পাতিলের দাবি, সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়া হয়নি। অপরদিকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ভিক্ট্রি প্যারেডেরে ঘোষণা নিয়েও তৈরি হয়েছে দ্বিমত।
বেঙ্গালুরু পুলিস জানিয়েছে আরসিবি কর্তৃপক্ষ ভিক্ট্রি প্যারেডের জন্য কোনও অনুমতি নেয়নি। এদিকে আরসিবি কর্তৃপক্ষ ও কর্ণাটক ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিস। আরসিবির তরফে আজ, বৃহস্পতিবারও সমবেদনা জানিয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি জখমদের চিকিৎসার খরচের জন্যও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ, জানিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই এই পদপিষ্ট কাণ্ডে ১১টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। কাবন পার্ক থানায় এক সমাজকর্মী মামলা দায়ের করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী, উপ মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে। কর্ণাটক ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক আপ নেতাও। এদিন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম চত্বর ঘুরে দেখেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর। তিনি জানান, গতকাল, বুধবার স্টেডিয়ামে প্রায় আট লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী এসেছিল। গতকালই কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া বলেছিলেন মাত্র ৩৫ হাজার দর্শকাসন স্টেডিয়ামের। এত সংখ্যক মানুষ আসবেন অনুমান ছিল না। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেছেন তিনি।
এদিকে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কর্ণাটক সরকার, রাজ্য ক্রিকেট বোর্ড ও আরসিবি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই ঘটনা কেন ঘটল তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি। সূত্রের খবর, পুলিসের তরফে গতকাল, কোনও অনুষ্ঠান আয়োজন না করতেই বলা হয়েছিল। তারপরেও কীভাবে এই অনুষ্ঠান হল তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।