অভিষেক পাল, রেজিনগর: আয়ুষ্মান ভারতে যাঁরা যুক্ত হতে পারবেন না, তাঁদের কী হবে? বাংলার সেই নাগরিকরা কি বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? লাগাতার উঠতে থাকা এই প্রশ্নের আবহেই বড়ো ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের সভা থেকে জানিয়ে দিলেন, তাঁদের পাশেও থাকবে রাজ্য সরকার। এই নাগরিকদের জন্য আনা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা। এর মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা নিয়ম রয়েছে। ফলে এর সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছিল। যাঁরা এর সুবিধা পাবেন না, তাঁদের কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সব জল্পনার অবসান হয়েছে। রেজিনগরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরাজ্যে সাড়ে ছ’কোটির বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড দেব। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পাবেন না, তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় পাঁচ লক্ষের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেব। তবে সেই কার্ড আগের সরকারের মতো হবে না। এটা শুধু বাংলায় নয়, গোটা ভারতবর্ষে যাতে পাঁচ লক্ষ টাকার সুবিধা পাওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা আপনাদের সরকার করবে।’
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান বিধি যোজনায় কেন্দ্রের ছ’হাজার টাকার সঙ্গে আরও তিন হাজার টাকা যুক্ত হবে।’ পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যায় ‘বিদ্ধ’ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি, পরিযায়ীদের ফিরিয়ে আনবে বিজেপি সরকার। এখানেই যাতে তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করা যায় এবং তাঁদের পরিবারকে মাসিক ১৫-১৮ হাজার টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া যায়, সেই নিয়েও চিন্তাভাবনা আছে সরকারের।
প্রতিটি প্রকল্পে শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে পরিষেবা পায়, সেটি কড়াভাবে নজরদারি করতে প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন স্কিম রিভিউ করা হচ্ছে, সেই জন্য দু’মাস সময় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে লাগামছাড়া দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী কারা, সেসব ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে দেখলাম, বহু ভুয়ো প্রাপক আছে। এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তার অধিকাংশ জাল। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এবার আমরা ভালোভাবে নথি পরীক্ষা করছি। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার লিংক, কেওয়াইসি আছে কি না, এসব দেখতে গিয়ে ভুয়ো উপভোক্তারা ধরা পড়ছে। দুটো মাস সময় দিন, ভেরিফিকেশনের কাজ হবে। ভুয়ো যারা ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে মানুষকে সরকারি পরিষেবা ও সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা নিয়েও তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন। আইনের শাসনই যে শেষ কথা—মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মুর্শিদাবাদে প্রথম সফরে এসেই তা ফের স্পষ্ট করেছেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়েছেন। সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই বলেও পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ন্যায় সংহিতাতে যা বলেছে, আপনারা যা ট্রেনিং করেছেন, সেই মতো ব্যবস্থা করতে হবে।’