উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণায় বিষ্ণুপুরে দুই রথের শোভাযাত্রায় জৌলুস বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই মল্লরাজাদের স্মৃতি বিজড়িত রথযাত্রা এবার বাড়তি মাত্রা পাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিষ্ণুপুরে কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জে রথের দিন রশিতে টান দেওয়ার জন্য বহু ভক্ত আসেন। আর উলটো রথের শোভাযাত্রায় শহরে কার্যত জনজোয়ার হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে উদ্যোক্তারা মনে করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লারাজাদের স্মৃতি বিজড়িত শহরের রথযাত্রায় কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জের আরাধ্য দেবতা যথাক্রমে রাধালালজিউ এবং মদনগোপালজিউ। তাঁদের প্রতীক হিসাবে গরুড় এবং ষাঁড় থাকেন। সোজা রথের দিন সকালে ও রাতে দুই মন্দিরে রথ টানা হয়। রথের রশিতে টান দিতে বহু দর্শনার্থীর ভিড় জমে। উলটো রথের আগের দিন বকুলকুঞ্জ অনুষ্ঠানে দুই মন্দিরে দেবতাকে মন্দিরে সাজিয়ে বিশেষ পুজো করা হয়। উলটো রথের দিন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শহরে কার্যত জনজোয়ার সৃষ্টি হয়। বিষ্ণুপুর শহর ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন। রাধালালজিউ এবং মদনগোপালজিউ ছাড়াও তাঁদের প্রতীক যথাক্রমে গরুড় এবং ষাঁড়ের বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে চড়ে নগর পরিক্রমায় বের হয়। কৃষ্ণগঞ্জের শোভাযাত্রা কৈলাসতলা, গোপালগঞ্জ, রসিকগঞ্জ, উকিলপাড়া, ঢেলাদুয়ার হয়ে মন্দিরে ফিরে আসে। একইভাবে মাধবগঞ্জের শোভাযাত্রা মুচিগলি, বোলতলা, বাহাদুরগঞ্জ, চকবাজার, থানা মোড়, গোয়ালাপাড়া হয়ে মন্দিরে আসে। তবে ঢেলাদুয়ার এলাকায় দুই দেবতা মুখোমুখি হয়। বছরের ওই একটা দিন তাঁরা একে অপরকে দেখেন। ওই সময় যাতে দুই রথ কমিটির মধ্যে কোনো ঝামেলা না হয়, সেজন্য প্রশাসনের তরফে মাঝে টিনের বেড়া দেওয়া হয়। সেখানে প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়।
কৃষ্ণগঞ্জ আটপাড়া ষোলোআনা কমিটির সভাপতি রবিলোচন দে বলেন, সোজা রথের দিন থেকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক ও ভক্তিমূলক নানা অনুষ্ঠান হবে। উলটো রথের দিন সন্ধ্যার পর একাধিক চৌদাল, তাসাপাটি, চন্দননগরের আলোকমালা ও বাদ্যযন্ত্র সহযোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় প্রভু শ্রী শ্রী রাধালালজিউ সহ বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি নগর পরিক্রমা করবে। এবারে রথের বাজেট ১২লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। লিজে দেওয়ার পুকুরের আয় এবং ভক্তদের দানের টাকা থেকে রথের খরচ করা হয়। এবার মুখ্যমন্ত্রী রথের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তা পেলে খুব উপকার হবে। আলোকসজ্জা এবং সমাজসেবামূলক কর্মসূচি বাড়ানো হবে। অনুদান পাওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। মাধবগঞ্জ ১১ পাড়া ষোলোআনা কমিটির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক দীপক দত্ত ও সঞ্জয় নন্দী বলেন, বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী রথ এবারে ৩৬১বর্ষে পড়েছে। উলটো রথের শোভাযাত্রা এলাকার মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। তবে সোজা রথের দিন থেকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাজভোগের ব্যবস্থা থাকবে। উলটোরথের দিন সন্ধ্যায় মহাপ্রভুর নগর ভ্রমণে চৌদাল,মাটির রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ছাড়াও চন্দননগরের সুসজ্জিত আলোকমালা এবং হরেক বাদ্যযন্ত্র সহযোগে শোভাযাত্রা হবে। সরকারের অনুদান পেলে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাড়ানো হবে।