নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও একবার জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে সরকারের সংঘাত সামনে এনেছে। ১৭ অক্টোবরের রাতের ঘটনায় ১৪ জন জখমকে কেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল? সেই রাতেই এই প্রশ্ন তুলেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। সেই জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই রাতে এই ইস্যুতে সরব হওয়া মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন সৌম্যদীপ দে’র অভিযোগ, তারপর থেকেই তাঁকে হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকি এই বিষয়ে তিনি বউবাজার থানা ও সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন। ১৪ জন জখমের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বাকিদেরও ছেড়ে দেওয়া হবে বলে খবর। বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য, রাজ্যের সর্বোচ্চ স্তরের হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া আসলে সরকারি হাসপাতালের প্রতিই অনাস্থাজ্ঞাপন। এই প্রক্রিয়া ‘শিফট’ না ‘রেফার’ সেই নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্যভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, ‘যাঁরা বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেইসময় তাঁরা ডিউটিতে ছিলেন কি না খোঁজ নিতে বলেছি।’ তার রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি সার্ভিস রুলের পাঠও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে আসরে নেমেছে আরএসএসের পড়ুয়াদের সংগঠন। সেই রাতে অভিযোগ জানানো ইন্টার্নদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে তারা। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন ডাক্তার অনিকেত মাহাত।
ডাক্তার সৌম্যদীপ দে বলছেন, ‘তৃণমূল আমলে থ্রেট কালচার চালানো লোকজন এখন আবার সরব হয়েছেন। তাঁরা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। সার্ভিস রুলের একটা বিষয় উঠে এসেছে। আসলে আমরা ইন্টার্ন। আমরা ওখানে চাকরি করি না। আমরা স্যালারি পাই না, স্টাইপেন্ড পাই।’ এমনকি ওই ডাক্তারের পাড়ায় তাঁর বাবাকেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। পুজোর ছুটির পর জুনিয়র ডাক্তাররা এই বিষয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন বলেও খবর।



