Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য চলবে না, মৌলিক অধিকার নিয়ে বার্তা প্রধান বিচারপতির

ঐক্য, সাম্য এবং স্বাধীনতা। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এই রক্ষাকবচ দিয়েছে সংবিধান।

নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য চলবে না, মৌলিক অধিকার নিয়ে বার্তা প্রধান বিচারপতির
  • ৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ঐক্য, সাম্য এবং স্বাধীনতা। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এই রক্ষাকবচ দিয়েছে সংবিধান। তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। এটাই ছিল বাবাসাহেব আম্বেদকর সহ সংবিধান প্রণেতাদের স্বপ্ন। ৭৫ বছর ধরে সংবিধান ভারতের চালিকাশক্তি। আগামীতেও যেন সংবিধানই হয় ভারতের আত্মা। কেশবানন্দ ভারতী মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যা বলে গিয়েছে, সেটা চিরকালই এক অটল অবস্থান। অর্থাৎ সংবিধানের মূল কাঠামো কোনওভাবেই বদলানো যাবে না। মনে রাখতে হবে যে, সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতি (ডাইরেক্টিভ প্রিন্সিপল) এবং মৌলিক অধিকার হল, গণতন্ত্রের রথের দুই চাকা। এদেশে সকল নাগরিকের সমানাধিকারের ক্ষমতা দিয়েছে সংবিধান। আর তাই কোনও বৈষম্য চলবে না। এটাই শেষ কথা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই লন্ডনে এক বক্তৃতায় এমনই মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার সকলের আছে।  নাগরিকদের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ আক্রমণাত্মক মনোভাব ও সক্রিয়তার অধিকার নেই রাষ্ট্রের। এভাবে সংবিধানের জয়গানের মাধ্যমে তিনি কাকে বার্তা দিতে চাইলেন? তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। 

Advertisement

লন্ডনে বহু বছর ধরে আইনজীবী এবং বিচারপতিদের চারটি পেশাদার সমিতি তথা ইনস অব কোর্টের অন্যতম গ্রেস ইন আয়োজিত সংবিধানের ৭৫ তম বর্ষে বাবাসাহেব আম্বেদকর ও সংবিধান সংক্রান্ত এক আলোচনাসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধান  বিচারপতি। সেখানে তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার এবং সকলের জন্য সাম্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, সংবিধানের সবথেকে উল্লেখযোগ্য ধারা হল ৩২। সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার যদি ক্ষুণ্ণ হয় অথবা বৈষম্য তৈরি হয়, তাহলে নাগরিকদের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার দিয়েছে এই ধারা। খোদ আম্বেদকর মনে করতেন যে, এটাই সবথেকে শক্তিশালী ধারা। গাভাই বলেন, বাবাসাহেব বলে গিয়েছিলেন যে,  ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্ব’  হল ভারতের ত্রিশক্তি। স্বাধীনতা আছে, অথচ সাম্য নেই, তাহলে কিন্তু নৈরাজ্য তৈরি হবে। এই তিনটির একটিও যদি দুর্বল হয়, তাহলে সর্বাগ্রে বিপদে পড়বে গণতন্ত্র। গাভাই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের বিচারবিভাগের বিশেষ অবদান রয়েছে, জীবনের অধিকার (২১ নং ধারা) প্রতিষ্ঠায়। জীবনের অধিকারের সঙ্গে যেন সম্মানজনক জীবন যাপনেরও অধিকার থাকে নাগরিকের। 
আম্বেদকর থেকে জওহরলাল নেহরু, উভয়েরই অকুন্ঠ প্রশংসা করেছেন প্রধান বিচারপতি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে থেকে এবং গোটা নির্বাচন পর্বে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের প্রচারের ভরকেন্দ্র ছিল সংবিধান রক্ষা। এখনও মোদি সরকারের হাতে সংবিধান অবিরত লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। সেই আবহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সংবিধানকেই দেশের চালিকাশক্তি আখ্যা দেওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, আজ সংবিধানের এই রক্ষাকবচের জন্যই আমরা তিনজন অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত মানুষ ভারতের তিনটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বিরাজমান হতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি! এটাই সাম্যের অধিকারের শক্তি! 

সম্পর্কিত সংবাদ