Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছবিতেই পাটিগণিত! ‘অঙ্কে ভীতি’ কাটাতে পড়ুয়াদের মন পড়ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

ছবিতেই পাটিগণিত! ‘অঙ্কে ভীতি’ কাটাতে পড়ুয়াদের মন পড়ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: এবার চোখে দেখা যাবে পাটিগণিত। বনগাঁর অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মনোতোষ মিত্রের নয়া তত্ত্বে এটাই বাস্তব হতে চলেছে। তিনি লিখে ফেলেছেন ‘পাটিগণিতের জ্যামিতি’ নামে একটি বই। তাতে পাটিগণিতের যেকোনও তত্ত্বকে সমকোণী ত্রিভুজ দিয়ে প্রকাশের নয়া পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর ফলে বিমূর্ত পাটিগণিত মূর্ত হয়ে ধরা পড়ছে জ্যামিতিক চিত্রে। শিক্ষকের আশা, অঙ্ক মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় উগরে আসা ছাত্রছাত্রীরা এই পদ্ধতিতে গণিতের মূল ভাবনা বুঝে তা শিখতে পারবে। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গণিত জগতের একাধিক দিকপাল অধ্যাপক। 
Advertisement
সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সিলেবাস অনুযায়ী অঙ্কগুলিকে জ্যামিতিক নিয়মে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। মনতোষবাবু বলেন, পাটিগণিতের সবকিছুই সমানুপাত এবং ব্যস্তানুপাতের সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। প্রথমে সমকোণী ত্রিভুজের সূত্রে ব্যস্তানুপাতটি ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হই। পরে ব্যস্তানুপাতের সম্পর্কটিও বেরিয়ে আসে। এর মাধ্যমে লাভক্ষতি, অংশীদারি ব্যবসা থেকে শুরু করে পাটিগণিতের যেকোনও সমস্যাই এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তাঁর দাবি, এখন বিভিন্ন সমস্যা যেমন আয়তক্ষেত্র বা গোলকের আয়তন ছাত্রছাত্রীরা মুখস্থ করা সূত্র দিয়ে বের করে ফেলে। তবে কেন, দৈর্ঘ্যকে প্রস্থ দিয়ে গুণ করলে আয়তক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল বেরয় বা ৪ পাই আর স্কোয়ার করলে কেন গোলকের ক্ষেত্রফল পাওয়া যায়, সেটা তারা বলতে পারে না। এসবই জ্যামিতিক ছবিতে বোঝানো সম্ভব।
শুধু পাটিগণিতকে ছবিতে প্রকাশ নয়, গণিতের ব্যাকরণ এবং গণিতের অ্যানাটমি সম্পর্কিত তত্ত্বও আবিষ্কার করেছেন তিনি। শূন্যকে স্বরবর্ণ এবং ১-কে ব্যঞ্জনবর্ণ ধরে সংখ্যার সন্ধি, সমাস এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও আবিষ্কার করেছেন। এসব তত্ত্ব অনুযায়ী রাজ্যের বহু স্কুলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গণিতের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে শ’খানেক স্কুল। এসব উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের উপসচিব পার্থ কর্মকার। সরকারি পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ক্যালকাটা ম্যাথামেটিক্যাল সোসাইটিরও অন্যতম শীর্ষকর্তা। সেই সুবাদে সহজে গণিত শেখানোর জন্য নানা ওয়ার্কশপের আয়োজন করে থাকেন তাঁরা। মনতোষবাবুর বইয়ের মুখবন্ধও তাঁর লেখা। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, গোখেল মেমোরিয়াল স্কুল, সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলের মতো বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত গণিত শিক্ষকরা এই আবিষ্কারের ভূয়সী প্রশংসা করে বার্তা পাঠিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ