গোটা গ্রামটাই যেন এক বিশাল ক্যানভাস। সেই ক্যানভাসজুড়ে রং-তুলির অজস্র আঁকিবুকিতে কোথাও ফুটে উঠেছে প্রকৃতির অকৃত্রিম সৌন্দর্য, কোথাও অরণ্য সংরক্ষণের বার্তা। কোথাও আবার কথায়-ছবিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। পাকা বাড়ি হোক বা কাঁচা—এই গ্রামের প্রত্যেক ঘরের দেওয়াল রঙিন ও বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের উদ্যোগে। কথা হচ্ছে আউশগ্রামের লবণধার গ্রাম নিয়ে। কেবল স্থানীয় চিত্রশিল্পীরাই নন, প্রতিবেশী রাজ্যের নামকরা শিল্পী, এমনকী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস বিভাগের প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত চিত্রশিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় রঙিন হয়ে উঠেছে লবণধার। গ্রাম ঘুরতে গিয়ে মনে হতে পারে, বিশাল কোনও প্রদর্শনীকক্ষে হাজারো ছবি আর গ্রাফিতির ভিড়ে আপনি বোধহয় হারিয়ে গিয়েছেন।
Advertisement
আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের দেবশালা অঞ্চলে লবণধার গ্রামে প্রায় ১২০০ মানুষের বসবাস। তাঁদের একটা বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত। গ্রামের চারপাশ ঘিরে রয়েছে জঙ্গল। সেই জঙ্গল সংরক্ষণের বার্তা দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিল স্থানীয় কয়েকজন যুবকের তৈরি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেই যুবকরাই সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা চিত্রশিল্পীদের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার শিল্পীদের সঙ্গে। তাঁদের গ্রামে নিয়ে আসেন। সবাই মিলে সাজিয়ে তুলেছেন গ্রামের প্রতিটি ঘরের দেওয়াল। ফুটে উঠেছে প্রকৃতির নানা রূপ, পৌরাণিক কাহিনির চিত্ররূপ, পরিবেশ ও অরণ্য বাঁচানোর জরুরি বার্তা। পশুপাখির ছবি থেকে জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্র—কী নেই!
এই উদ্যোগই গ্রামবাসীদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন এক সম্ভাবনার দরজা। এখন গ্রামে তৈরি হয়েছে মাটির তৈরি হোম স্টে। সেখানে এক-দু’দিন থেকে নিখাদ প্রকৃতি উপভোগ এবং আন্তরিক আতিথেয়তা গ্রহণের উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে আউশগ্রামের লবণধার। এমন উদ্যোগের প্রশংসা করতে কুণ্ঠা করছেন না পর্যটকরা। তাঁরা ফিরে গিয়ে আরও মানুষকে উৎসাহিত করছেন অপরূপ গ্রামটি দেখে আসার জন্য।
এই উদ্যোগই গ্রামবাসীদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন এক সম্ভাবনার দরজা। এখন গ্রামে তৈরি হয়েছে মাটির তৈরি হোম স্টে। সেখানে এক-দু’দিন থেকে নিখাদ প্রকৃতি উপভোগ এবং আন্তরিক আতিথেয়তা গ্রহণের উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে আউশগ্রামের লবণধার। এমন উদ্যোগের প্রশংসা করতে কুণ্ঠা করছেন না পর্যটকরা। তাঁরা ফিরে গিয়ে আরও মানুষকে উৎসাহিত করছেন অপরূপ গ্রামটি দেখে আসার জন্য।



