সংবাদদাতা, ঝালদা: বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্য এবার ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করল। ১২ থেকে ২৩ জুন বুলগেরিয়া ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন শহরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন বাঘমুন্ডি ব্লকের চড়িদা গ্রামের কিংবদন্তী শিল্পী পদ্মশ্রী গম্ভীর সিং মুড়ার প্রতিষ্ঠিত আদিবাসী ছৌ নৃত্য দল। এই সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে ভারতের লোকসংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্য আরও একবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল।
ভারত সরকারের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস-এর বিশেষ উদ্যোগে ৮ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি বিদেশে পাড়ি দিয়েছিল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন পদ্মশ্রী গম্ভীর সিং মুড়ার বড় ছেলে কার্তিক সিং মুড়া। সঙ্গে ছিলেন জয়ন্ত সূত্রধর সহ দলের অন্যান্য কুশীলবরা। বুলগেরিয়ার ‘এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল’ এবং স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘মিয়াভা ফেস্টিভ্যাল’-এ ভারতীয় প্রতিনিধি হিসাবে তাঁদের ছৌ নৃত্যের পরিবেশনা ছিল উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, ‘শম্ভু-নিশম্ভু বধ’ সহ একাধিক পালার মাধ্যমে পুরুলিয়ার এই শিল্পীরা ইউরোপের দর্শকদের আনন্দ দেন। ছৌ নৃত্যের উদ্দাম ছন্দ, বাদ্যযন্ত্রের লয় এবং কুশীলবদের অভিনয়ের দক্ষতা ও গাম্ভীর্যতা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দর্শকরা। এমন শক্তিশালী এবং বর্ণময় নৃত্যশৈলী এর আগে খুব কমই দেখেছে ইউরোপ। ‘সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা।’ বলছিলেন জয়ন্ত সূত্রধর। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘পুরুলিয়ার এই লোকসংস্কৃতির শৈলী ও উপস্থাপনা অন্যান্য দেশের প্রদর্শনীর চেয়ে একেবারে স্বতন্ত্র। তাই মঞ্চে ওঠার পর থেকেই দর্শকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আমরা বুঝতে পারছিলাম, আমাদের শিল্প তাঁদের কতটা ছুঁয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ইউরোপের লোকেরা আমাদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ভিড় জমিয়ে দিয়েছিলেন। কেউ মুখোশ পরে, কেউ আবার আমাদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় হিসাবে তখন বেশ গর্ব অনুভব করছিলাম।’ দলের প্রধান কার্তিক সিং মুড়া বলছিলেন, ‘আমি দীর্ঘ দিন ধরে ছৌ নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের এই লোকসংস্কৃতির জয়যাত্রা দেখে মন ভরে গিয়েছে।’
চড়িদা গ্রামের শিল্পীদের এই সাফল্য শুধু পুরুলিয়া জেলা বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, বরং সমগ্র ভারতবর্ষের জন্য গর্বের বিষয়। নিজস্ব চিত্র