নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় কাড়ান ছাতুর দাম খাসির মাংসকে টেক্কা দিয়েছে। বাঁকুড়া শহরে বর্তমানে প্রতি কেজি খাসির মাংসের দাম ৮০০ টাকার আশপাশে ঘোরফেরা করছে। অথচ কাড়ান ছাতু বা জঙ্গলের মাটিতে ফোটা মাশরুম এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাঁকুড়া শহরের লালবাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি কাড়ান ছাতু বিক্রি হয়। শহরের চকবাজার, মাচানতলাতেও ছাতুর ভালো বিক্রি রয়েছে। বড়জোড়া, সোনামুখী, তালডাংরা সহ অন্যান্য ব্লকের জঙ্গল এলাকা থেকে ছাতু বাঁকুড়া শহরে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কাড়ান ছাতু মাশরুমের একটি প্রজাতি। ওই ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ খাওয়ার যোগ্য। প্রোটিন ও অ্যামাইনো অ্যাসিডে ভরপুর ওই ছাতু স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারি। কাড়ান ছাতুতে নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। ফলে তা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কাড়ান ছাতু খেলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এমনকি, মাশরুম ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমিয়ে দেয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে। এককথায় কাড়ান ছাতুকে ধন্বন্তরি বললে ভুল বলা হবে না। বাঁকুড়ার আবহাওয়া কাড়ান ছাতু জন্মানোর পক্ষে আদর্শ। ফলে পুজোর মুখে জেলায় প্রচুর পরিমাণে তা পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কাড়ান ছাতু শাল, মহুলের জঙ্গলে বেশি পাওয়া যায়। বসন্তে জঙ্গলের পর্ণমোচী উদ্ভিদের পাতা ঝড়ে যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় তা পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। শরতে সেই মাটিতেই কাড়ান ছাতুর জন্ম হয়। অষ্টমী তিথিতে ফোটে বলে একে অনেকে অষ্টমী ছাতু বলেন। জন্মাষ্টমী থেকে বাঁকুড়ার বাজারে কাড়ান ছাতুর আমদানি হয়। তারপর থেকে দুর্গাপুজোর অষ্টমী পর্যন্ত ছাতু পাওয়া যায়। শীতের আগমনে শিশির পড়তে শুরু করলে ছাতু ফোটা ক্রমশ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গা পুজোর মুখে বেশি করে ছাতু পাওয়া যায় বলে অনেক জায়গায় আবার ‘দুর্গা ছাতু’ বলা হয়।
বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া শহরের লালাবাজার এলাকার সানঘাটে রাস্তার দু’পাশে রাশি রাশি ছাতু ঢেলে বিক্রির চিত্র ধরা পড়ে। গুনগত মান অনুযায়ী ছাতু ৮০০-১০০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছিল। কুঁড়ি ছাতুর দাম তুলনায় বেশি থাকে। ব্যাঙের ছাতার মতো ফুটে যাওয়া ছাতু অবশ্য কিছুটা কম দামে বিক্রি করা হয়। ছাতু বিক্রেতা অনন্ত শীট বলেন, বেলিয়াতোড় এলাকার জঙ্গল থেকে স্থানীয়রা ছাতু তুলে আনেন। তাঁদের কাছ থেকে আমরা কিনে নিই। পরে তা শহরে বিক্রি করা হয়। এবার সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা কেজি দরে কাড়ান ছাতু বিক্রি হয়েছে।
শহরের কমড়ার মাঠ এলাকার বাসিন্দা মিঠু চট্টোপাধ্যায় বলেন, উপকারিতার কথা মাথায় রেখে আমরা বছরের এইসময় নিয়মিত কাড়ান ছাতু খেয়ে থাকি। গতবারের তুলনায় এবার কাড়ান ছাতুর দাম একটু বেশি রয়েছে।