পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে বসে প্রতারণা জামতাড়া গ্যাংয়ের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করল ছত্তিশগড় পুলিশ
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে বসে প্রতারণা চালাচ্ছিল জামতাড়া গ্যাং। ফোন যাচ্ছিল কলকাতা থেকে ছত্তিশগড়ে। সেখানকার বাসিন্দাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। তদন্তে নামে ছত্তিশগড় পুলিশ। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে জালিয়াতদের অবস্থান চিহ্নিত করার পর কলকাতা থেকে শাহবাজ আনসারি ও মহম্মদ জিয়াউল হক নামে জামতাড়া গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে তারা। তাদের জেরা করে গ্যাংয়ের মূল মাথাদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে ছত্তিশগড় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Advertisement

চলতি বছরের আগস্ট মাসে রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডের একটি হোটেল থেকে জামতাড়া গ্যাংয়ের ১১ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখানে বসে তারা সাইবার জালিয়াতি চালাচ্ছিল। তাদের জেরা করে জানা যায়, কোনো ফ্ল্যাট বা বাড়ি নয়, হোটেলে গেস্ট হিসাবে উঠে সেখানে বসেই চলছে  প্রতারণা। তারপর ফের ওই চত্বরের হোটেল থেকে জামতাড়া গ্যাংয়ের দুই সদস্য গ্রেপ্তার হল। ছত্তিশগড় পুলিশ কয়েকমাস আগে জামতাড়া গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ল্যাপটপ ,মোবাইল, নগদসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাদের জেরা করে শাহবাজ ও জিয়াউলের নাম পান তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পারেন, এরা চক্রের অন্যতম পান্ডা। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর মাঝে ফের ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে কেওয়াইসি আপডেট বা বিনিয়োগের টোপ দিয়ে ফোন আসতে থাকে। একজনের কাছ থেকে বিনিয়োগের নাম করে ৬ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ। এই টাকা জামতাড়ার একটি মিউল অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। ওই অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে সেখানকারই একজনের নামে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শাহবাজ ও জিয়াউলের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীরা দেখেন, ছত্তিশগড়ে আসা ফোনগুলি করা হচ্ছে কলকাতা থেকে। পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে টাওয়ার লোকেশন।  প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম ব্যবহার করছে জালিয়াতরা। এরপর সোমবার ছত্তিশগড় পুলিশের টিম কলকাতায় আসে। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানকার একটি হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে সেদিন রাতেই শাহবাজ ও জিয়াউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে বসে তারা ফোনের মাধ্যমে প্রতারণা চালাচ্ছিল। এখান থেকেই তারা জাল আধার কার্ড দিয়ে মোবাইলের সিম তুলছিল। পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে তারা হোটেল বদল করছিল নিয়মিত। পার্ক স্ট্রিটের ওই হোটেলে কয়েকদিন আগে এসে উঠেছিল এই দুই অভিযুক্ত।