‘ধনকে দেখিলু তুই ননী সিনা মনকে চিনলু নাই... ছি ছি ছি রে ননী ছি!’ ২০ বছর আগের এই কোরাপুটিয়া গানেই হঠাৎ তোলপাড় ইন্টারনেট। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম থেকে বিয়েবাড়ি, পিকনিক— রিলস, মিম, ভিডিওয় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ‘ছি ছি ছি রে ননী ছি’। ইউটিউবে ১২০ কোটিরও বেশিবার দেখা হয়েছে মিউজিক ভিডিওটি। ২০২৫ সালের প্রথম ভাইরাল গানের তকমাও জুটে গিয়েছে ‘ননী’র কপালে। ট্রেন্ডিংয়ের ঠ্যালায় অতিষ্ঠ নেটদুনিয়ার নাগরিককুল। কিন্তু কীভাবে রাতারাতি লোকের মুখে মুখে ফিরছে ওড়িশার সম্বলপুরের এই গান? কারাই বা বানিয়েছে সেটি? এই গানের অর্থই বা কী? প্রজন্মের পর প্রজন্ম দিব্যি আমোদ পেলেও ভিডিও দেখে বেশ বোঝা যাচ্ছে, এ এক ব্যর্থ প্রেমের গান। ভাইরাল এই গানের গায়ক ও গীতিকার সত্যনারায়ণ অধিকারী প্রয়াত। মিউজিক ভিডিওর পরিচালক মনভঞ্জন নায়েক জানাচ্ছেন, ১৯৯৫ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল গানটি। ১০ বছর পর সেটির মিউজিক ভিডিও তৈরি করার প্রস্তাব দেন প্রযোজক সীতারাম আগরওয়াল। তখনই গ্রামের এক গরিব যুবকের ব্যর্থ প্রেমকে ঘিরে গল্পটা ভাবা হয়। আর্থিক অবস্থার কারণে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেচে প্রেমিকার পরিবার। কাজের সন্ধানে যাওয়া যুবক বাড়ি ফিরে জানতে পারে প্রেমিকার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তখনই সে গেয়ে ওঠে—‘শুধু টাকাপয়সা, সোনাদানাই চিনলি রে তুই, মানুষ চিনলি না। টাকা যার আছে তার মন নেই। আজ আমার টাকাপয়সা নেই বলে তুই আমাকে ছেড়ে দিলি। আমার মনকে দেখলি না ছি ছি ছি রে ননী ছি।’ সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপাচ্ছেন এই গানের কেন্দ্রীয় চরিত্র, সম্বলপুরের গোবিন্দটোলার বাসিন্দা বিভূতি বিশ্বল। আকাশবাণী সম্বলপুরের সঙ্গে জড়িত এই শিল্পী একজন থিয়েটার অভিনেতা। দু’দশক পর এই গানের পুনর্জন্ম তাঁর কাছে যেন ঈশ্বরের উপহার!



