Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

চের্নোবিলের ছত্রাক

চের্নোবিলের ছত্রাক
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

চের্নোবিলের পারমাণবিক বিপর্যয়ের কথা মনে পড়ে? ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিলের মধ্যরাত। অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে চের্নোবিল পরমাণু কেন্দ্রের ৪ নম্বর চুল্লিতে ঘটেছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ৪০ বছর আগে ঘটলেও চের্নোবিল বিপর্যয়ের স্ম়ৃতি এখনও ভুলতে পারেননি অনেকে। চের্নোবিল পরমাণু কেন্দ্রে ওই বিস্ফোরণের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪ জন কর্মীর। পরের তিন মাসে মারা যান আরও ৩১ জন। এভাবেই চের্নোবিল বিপর্যয়ে সব মিলিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লক্ষ শিশু সহ ৫০ লক্ষ মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, বিষাক্ত তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের জেরে ক্যান্সারে মারা গিয়েছেন অন্তত ৯ হাজার। আজও সেখানকার সদ্যোজাতরা নানা অসুস্থতা নিয়ে জন্মায়। পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর ওই এলাকাটি ছিল মৃত্যু আর রেডিয়েশনের নামান্তর। সম্প্রতি সেই ভয়ঙ্কর দুনিয়ায় বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এক অদ্ভুত ছত্রাক—ক্রিপ্টোকোকুস নিওফরমান্স। এই ছত্রাক সাধারণ কোনও জীবের মতো নয়। কারণ, এটি রেডিয়েশন বা বিকিরণকে শক্তিতে রূপান্তর করে নিজের বেঁচে থাকার উপায় বানিয়ে নিয়েছে। এই ছত্রাকের শরীরে অনেক পরিমাণে মেলানিন থাকে, আর এটাই মূল রহস্য। মেলানিন সূর্যালোকের মতো ক্ষতিকর বিকিরণ শোষণ করে এবং একে রাসায়নিক শক্তিতে বদলে ফেলে। এই প্রক্রিয়ার নাম রেডিওসিন্থেসিস। যেটা গাছের ফটোসিন্থেসিস বা আলো থেকে খাদ্য তৈরির মতো। কিন্তু এখানে আলো নয়, কাজ করে রেডিয়েশন। এই অভিনব ক্ষমতার কারণেই নাসা এবং জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এখন এই ছত্রাক থেকে মেলানিন সংগ্রহ করে তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। ২০১৯ সালে ক্রিপ্টোকোকুস নিওফরমান্স ছত্রাক থেকে প্রাপ্ত মেলানিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহাকাশ থেকে ফিরে আসা মেলানিনযুক্ত ছত্রাকের জীবনীশক্তি মেলানিনবিহীন ছত্রাকের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ