Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কল্যাণের পুজোর হাতবদল, বিজেপি নেতাদের তত্ত্বাবধানে হল খুঁটিপুজো

পালাবদলের পরে অনেক ‘বদল’ই দেখেছে মানুষ। এবার বদল হল দুর্গাপুজোর নিয়ন্ত্রণেও। হুগলির শ্রীরামপুরের আরএমএস মাঠে পাঁচ ও ছ’য়ের পল্লির দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো ঘিরে সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল।

কল্যাণের পুজোর হাতবদল, বিজেপি নেতাদের তত্ত্বাবধানে হল খুঁটিপুজো
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পালাবদলের পরে অনেক ‘বদল’ই দেখেছে মানুষ। এবার বদল হল দুর্গাপুজোর নিয়ন্ত্রণেও। হুগলির শ্রীরামপুরের আরএমএস মাঠে পাঁচ ও ছ’য়ের পল্লির দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো ঘিরে সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল। প্রায় ১৬ বছর ধরে ওই পুজোর নিয়ন্ত্রণ ছিল শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের হাতে। আরও ভালো করে বললে, কল্যাণ ঘনিষ্ঠ স্থানীয় কাউন্সিলার সন্তোষ সিং (পাপ্পু) ছিলের ওই পুজোর সর্বময় কর্তা। অনেকের দাবি, ব্যবসায়ীদের একটি সামান্য পুজো শ্রীরামপুরের পরিচিত পুজো হয়ে উঠেছিল সাংসদের পৃষ্ঠপোষকতায়। শুক্রবার সেই পুজোর খুঁটিপুজো অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের হর্তাকর্তাদের কাউকে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে পুজোর তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে দেখা যায়।

Advertisement

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে পুজোর ‘দখল’ নেওয়ার কথা মানতে নারাজ তাঁরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রাজ্যে পালাবদলের পরে শ্রীরামপুরের সমীকরণেও একটি বিশেষ বদল এসেছে। একদা ‘দাদা’ কল্যাণের একান্ত অনুগত ‘ভাই’ সন্তোষ সিং’য়ের পথ বদল হয়েছে। সন্তোষ এখন ঋতব্রত-তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি। অন্যদিকে, কল্যাণবাবু মমতাপন্থী তৃণমূলে আছেন। এদিন সন্তোষের কথাতেও পুজো নিয়ে ভিন্ন সুর ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, একসময় ব্যবসায়ীরা পুজো করতে পারবেন না বলে পোস্টার দিয়েছিলেন। বিষয়টি কল্যাণদা’র কাছে পৌঁছলে তিনি আমাকে উদ্যোগ নিতে বলেন। সেই কারণে পুজোটি আমরা চালিয়ে গিয়েছি। সেখানে নাগরিকদের আগ্রহ ছিল, তৃণমূলের কোনো দাবি ছিল না। এবারও পুজো নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলাম। কিন্তু তার আগেই দেখলাম খুঁটিপুজো হয়ে গেল। যা হোক, পুজো নিয়ে ভাগাভাগির কোনো বিষয় না থাকাই ভালো। স্থানীয় বিজেপি নেতা স্বপন চক্রবর্তী, অমিতাভ ঘোষ বলেন, যাঁরা পুজো নিয়ে হম্বিতম্বি করতেন তাঁরা এবার কোনো উদ্যোগ নেননি। রথযাত্রার দিন খুঁটিপুজোর ঐতিহ্য থাকলেও তা করা হয়নি। তাই অনেকে আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা পুজো চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তাই পুজোর উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে দখলদারির কোনো ব্যাপার নেই। পুজোর সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, পাপ্পুদা ও কল্যাণদা এখন পৃথক পথের পথিক। আবার তৃণমূল কংগ্রেসও সরকারে নেই। এই অবস্থায় ওঁরা উদ্যোগহীন ছিলেন। সেই কারণে সময়ে খুঁটিপুজো হয়নি। বিজেপি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। আরএসএস ময়দানের পাঁচ ও ছ’য়ের পল্লির পুজো তৃণমূলের হাত ধরে শুধু চর্চিত হয়েছিল। 
শুধু তাই নয়, ওই পুজোকে সবাই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো বলেই চিনতেন। পুজোর দিন উদাত্ত চণ্ডীপাট থেকে খুঁটিপুজোর বাহুল্য, সবেতেই তৃণমূল নেতাদের বিপুল উপস্থিতি দেখা যেত। রাজ্যে পালাবদলের পরে নিঃশব্দে এবার অন্য এক পালাতেও বদল এল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ