


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ঢোলাহাটে বিস্ফোরণের ঘটনার ঠিক সাতদিন আগেই বাজি নিয়ে এক কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্রকান্ত বণিক। সেখানে বাজি নিয়ে কী করণীয়, আর কী নয়— সেটা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছিল। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে পইপই করে বলে দেওয়া হয়েছিল যে, ঘরের মধ্যে কোনওভাবেই বাজি মজুত করে রাখা যাবে না। কিন্তু সেই বিধিনিষেধ জেনে আসার পরও তা পালন করেননি ওই বাজি ব্যবসায়ী। তারই মাশুল দিতে হল তাঁর গোটা পরিবারকে। এদিকে এই ঘটনার জেরে বুধবার সকালে ঢোলাহাট থানার পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কাকদ্বীপ আদালতে ধৃতকে তোলা হলে, বিচারক চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনও চন্দ্রকান্তর ভাই তুষার পলাতক। কোথায় গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি, তা নিয়ে কেউ কিছু বলতেও পারছেন না।
গত ২৫ মার্চ ওই কর্মশালার আয়োজন করেছিল অল বেঙ্গল তৃণমূল গ্রিন ফায়ার ক্র্যাকার্স ম্যানুফ্যাকচারিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। সেই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রাজ্য সরকারের ডিরেক্টরেট অব ফ্যাক্টরিজ।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুখদেব নস্কর বলেন, এই ঘটনা শুনে আমরা নিজেরাও অবাক। ওই কর্মশালায় সবকিছু জেনে গিয়েও কেন নিজের ঘরে বাজি রাখলেন ওই ব্যবসায়ী! একই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, একটা পরিবারের সবাই শেষ হয়ে গেল। এত পরিমাণ বাজি জমিয়ে কেন রাখা হবে?
এদিকে জানা গিয়েছে, বাজি ব্যবসা দিয়ে জীবিকা শুরু করেননি চন্দ্রকান্ত। তাঁর মেজ কাকা প্রদীপ বণিক জানিয়েছেন, ‘সব্জি বিক্রি দিয়ে রোজগার শুরু করেছিল চন্দ্রকান্ত। তারপর কাশীনগরের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁর থেকেই বাজি তৈরি শিখেছিল সে। এরপর চম্পাহাটি থেকে বাজি কিনে বিক্রি শুরু করে। তার মাঝেই ধীরে ধীরে বাজি তৈরি করার কাজে হাত দেয়।’ চন্দ্রকান্তের বাজি ব্যবসা বন্ধ করতে ওই কাকা পুলিস প্রশাসন নয়, সরাসরি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন। প্রদীপবাবু বলেন, ‘গত বছর লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে এই অভিযোগ করেছিলাম। যেহেতু ভোটের সময় প্রশাসন কমিশনার অধীনে চলে যায়, তাই সেখান থেকে নির্দেশ এলে এই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতো ও। কিন্তু আদতে কোনও লাভ হয়নি।
অন্যদিকে, পাথরপ্রতিমার ওই গ্রাম বুধবারও থমথমে ছিল। চন্দ্রকান্তের বাড়ির অদূরে যে গুদাম ঘর ও কারখানা ছিল, সেটি ঘিরে রাখা হয়। কাউকে তার কাছাকাছি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বারুদের ড্রাম ও বস্তা পুলিস সরিয়ে ফেলেছে। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এদিন আসেন সিপিএম নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়।