


দুবাই: আট মাস আগে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে পরম উল্লাসে দেশে ফিরেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। দিল্লি পৌঁছে রোহিতরা দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তারপর মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভে বেরিয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার বিজয় রথ। রাস্তার দু’পাশে উপচে পড়েছিল ভিড়। চ্যাম্পিয়নদের দেখার জন্য কেউ কেউ চড়ে বসেছিলেন মগডালে। সেদিন টিম ইন্ডিয়ার মতোই আবেগে ডুবছিল গোটা দেশ। এবার রোহিতদের নিয়ে বিজয় প্যারেড হচ্ছে না। কারণ, দুবাই থেকে ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা আলাদা আলাদাভাবে দেশে ফেরার বিমান ধরেছেন। তার একটা বড় কারণ আইপিএল। কোটিপতি লিগ শুরু ২২ মার্চ। হাতে সময় কম। ভারতীয় ক্রিকেটারদের তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের প্রস্তুতি শিবিরে দ্রুত যোগ দিতে হবে।
চ্যাম্পিয়নদের উৎসবে অবশ্য ভাটা পড়েনি। গভীর রাত পর্যন্ত দুবাইয়ের টিম হোটেলে চলে সেলিব্রেশন। ‘ভিকট্রি কেক’ কাটেন রোহিতরা। সোমবার সকালে বিমানবন্দরে শ্রেয়স আয়ারকে ছেঁকে ধরেছিলেন ভক্তরা। মিটিয়েছেন সেলফির আবদার। আসলে সবাই এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া। ব্যতিক্রম নয় ভারতীয় শিবিরও। সকালে ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা ট্রফি নিয়ে ফটো শ্যুটে অংশ নিয়েছিলেন। সঙ্গী হয়েছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান। ট্রফি নিয়ে ঘুমোতে যাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভমান গিল। আবার ট্রফি হাতে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দেখা গিয়েছে বরুণ চক্রবর্তীকে। তবে ম্যাচ শেষে স্টাম্প তুলে নিয়ে রোহিত-কোহলির ডান্ডিয়া দারুণ সমাদৃত হয়েছে ক্রিকেট মহলে। পরিবারের সদস্যদের উপর কোচের নির্দেশে বিসিসিআই জারি করেছিল যে ফতোয়া, তা নিমেষে উধাও জয়োচ্ছ্বাসে। রোহিত, কোহলি, সামি, শুভমানের পরিবারের সদস্য ঢুকে পড়েছিলেন মাঠে। উৎসবের রাত এমনই হয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় টিম ইন্ডিয়াকে যেন নতুন প্রাণের সন্ধান দিয়েছে। কয়েকদিন আগেও কোচ গম্ভীরের সঙ্গে ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মার ঠান্ডা লড়াই ঘিরে মুখরোচক সব গল্প লেখা হয়েছে। কিন্তু সবই ভুল প্রমাণিত হল খেতাব জয়ের মঞ্চে। রোহিতকে জড়িয়ে ধরলেন কোচ গম্ভীর। হল শুভেচ্ছা বিনিময়ও। তাঁরা বোঝাতে চাইলেন, দলের সাফল্যের পিছনে এটাই আসল ইউএসপি।
অপরাজিত থেকে টিম ইন্ডিয়ার এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় নিঃসন্দেহ বড় সাফল্য। দু’বার নিউজিল্যান্ডকে হারানো। সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া। কিংবা টুর্নামেন্টের বহুচর্চিত পাকিস্তান ম্যাচে কোহলির ব্যাটে টিম ইন্ডিয়ার দুর্দান্ত জয় এই সাফল্যের বীজ বপণ করেছিল মরুশহরে। কোচ গম্ভীরের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তেরও তারিফ না করে উপায় নেই। চার স্পিনার নিয়ে মাঠে নামা হোক কিংবা ঋষভ পন্থের মতো তারকাকে দলের বাইরে রাখা— অনেক সমালোচনাই হজম করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দিনের শেষে গম্ভীরের মুখেও ধরা পড়েছে চওড়া হাসি। হবে নাই বা কেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় শুধু রোহিতের ক্যাপ্টেন্সি বাঁচায়নি, বাঁচাল কোচের চাকরিও।