Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্মৃতির পথে চক্ররেল, ‘বিমানবন্দর’ স্টেশন শুধুই ফলক

ভগ্নস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে হলুদ-কালোয় লেখা ‘বিমানবন্দর’ লেখাটি। একপাশের অংশ ভাঙা। অন্য পাশে মরচে ধরা কলাপসিবল গেট।

স্মৃতির পথে চক্ররেল, ‘বিমানবন্দর’ স্টেশন শুধুই ফলক
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ভগ্নস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে হলুদ-কালোয় লেখা ‘বিমানবন্দর’ লেখাটি। একপাশের অংশ ভাঙা। অন্য পাশে মরচে ধরা কলাপসিবল গেট। আর তার সামনে নবনির্মিত মেট্রো রেলের ‘জয় হিন্দ’ ষ্টেশন। চক্ররেলের ঘূর্ণায়মান যাত্রাপথে এখন শুধু স্মৃতির সরণিতে রয়ে গিয়েছে ‘বিমানবন্দর’ নামের ফলক। হয়ত সেটিও ভাঙার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

Advertisement

কলকাতা বিমানবন্দরের সঙ্গে ইতিমধ্যে মেট্রো রেলের সংযোগ স্থাপন হয়েছে। ‘জয় হিন্দ’ ষ্টেশন থেকে বিমানযাত্রীরা বিভিন্ন রুটে শহরের নানা প্রান্তে যেতে পারেন। সুসজ্জিত মেট্রো স্টেশন সকলেরই নজর কেড়েছে। এরই মধ্যে নজরে পড়েছে ‘বিমানবন্দর’ লেখা আরও একটি দেওয়াল লিখন। চারিদিকে ভগ্নস্তূপের মাঝখানে শুধু এই লেখাটি এখনও জ্বলজ্বল করে। ‘বিমানবন্দর’ লেখা অংশটি যখন চক্ররেল ছিল, সেই সময়কালের। কিন্তু এখন চক্ররেল উঠে গিয়েছে। শুধুমাত্র রয়ে গিয়েছে নামের ফলক।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জুলাইয়ে দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চক্ররেল পরিষেবা চালু হয়েছিল। তবে যাত্রী কম হওয়া এবং লোকসানের কারণে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সাল থেকে অবহেলিত চক্ররেলের এই অংশটি ভেঙে ফেলা হয়। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের সময়কালে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৩.৮ কিলোমিটার যাত্রাপথ হয়। দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে যশোর রোড ধরে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তা। প্রাথমিকভাবে ৯ জোড়া ট্রেন চললেও যাত্রীদের আগ্রহ কম থাকা এবং দূরত্বের কারণে তা দু’জোড়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময় যাত্রী সংখ্যা একেবারেই কমে যাওয়ায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়। তারপর ২০২০ সালে উড়াল পথটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়।
যশোর রোডের উপর আড়াই নম্বর গেট সংলগ্ন অংশ দিয়ে প্রবেশের পর কলকাতা বিমানবন্দরে ঢোকার আগে চোখে পড়বে চক্ররেলের ভাঙা অংশটি। আগে যেখানে স্টেশন ছিল, যাত্রীদের ওঠানামার সিঁড়ি, অফিস ঘর  সবই প্রায় ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র উপরের দিকের একটি অংশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজিতে লেখা স্টেশনের নামের ফলকটি রয়ে গিয়েছে।
মেট্রো রেলের নিরাপত্তারক্ষীদের চোখেও বিষয়টি পড়েছে। তাঁদের একজন বললেন, বিমানবন্দর লেখা চক্ররেলের স্টেশনের নামটি এখনও রয়েছে। হয়ত কিছুদিনের মধ্যে পুরো অংশ ভেঙে ফেলা হবে। যাত্রীদের বক্তব্য, শহর আধুনিক হচ্ছে। মেট্রো রেলের সম্প্রসারণ হচ্ছে। বিমানবন্দরে মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়েছে। তার মাঝখানে ‘বিমানবন্দর’ লেখা ভাঙা অংশটি কেমন যেন বেমানান। হয় সেটিকে ভেঙে ফেলা হোক, নতুবা যে নামের ফলকটি রয়েছে সেটিকে শুধুমাত্র রেখে দিক, চক্ররেল কোনো একসময় যে ছিল তার চিহ্ন বহন করুক।

সম্পর্কিত সংবাদ