Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ভোট মিটলেই গ্যাসের দাম বাড়াবে কেন্দ্র’, বিনপুরের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে তোপ অভিষেকের

বিধানসভা নির্বাচন মিটলেই আম জনতার পকেটে ‘কোপ’ দিতে চলেছে মোদি সরকার। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

‘ভোট মিটলেই গ্যাসের দাম বাড়াবে কেন্দ্র’, বিনপুরের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে তোপ অভিষেকের
  • ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০৩
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, বিনপুর: বিধানসভা নির্বাচন মিটলেই আম জনতার পকেটে ‘কোপ’ দিতে চলেছে মোদি সরকার। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে দেশজুড়ে ডামাডোল চলছেই। ক’দিন আগে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও ঊর্ধ্বমুখী। এই অবস্থায় মানুষকে সুরাহা দেওয়ার বদলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাড়তি বোঝা চাপাতে তৎপর। যে বিজেপি বারবার সাধারণ মানুষকে এই বিপদের মধ্যে ফেলছে, তাদের কি আদৌ ভোট দেওয়া উচিত? আগাম আশঙ্কা জানিয়ে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের বিনপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব এবং  দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন তিনি। তিনটি সভা থেকেই তিনি বিজেপিকে এই প্রশ্নে তোপ দাগেন। বলেন, ‘রান্নার গ্যাসের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,০০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, ভোট শেষ হওয়ার পর দিনই রান্নার গ্যাসের দাম ২,০০০ টাকা এবং পেট্রল-ডিজেল লিটার পিছু ২০০ টাকা হয়ে যাবে।’ চ্যালেঞ্জ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলছি, এখানে এসে মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি দিন যে আগামী পাঁচ বছর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে না। যদি আপনারা এটা করতে পারেন, তাহলে তৃণমূল প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেবে।’ বস্তুত, দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আম জনতার ক্ষোভ টের পেয়ে পেট্রল-ডিজেলের উপর শুল্ক কমাতে কার্যত বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। বিষয়টি স্রেফ চমক বা ভোট-বাজারে সস্তায় হাততালি পাওয়ার কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, ভোট মিটলেই বাংলা তথা দেশের মানুষের কপালে আরও দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে! 

Advertisement

অভিষেক আরও একটি বিষয়ে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন বিজেপি-কে। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি নেতারা একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছেন। আবার ক্ষমতায় এলে টাকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। অসম, ওড়িশা, বিহার, রাজস্থান সহ প্রায় ১৫টি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার ২ কোটি ৪০ লক্ষ মহিলাকে বিনা শর্তে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন, তারা কি নিজ নিজ রাজ্যে এটি কার্যকর করতে পারবে? যদি একটি রাজ্যও এটা করতে পারে, আমি আর তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ভোট চাইব না।’
ভোট ঘোষণার পর ঝাড়গ্রাম জেলায় এদিন ছিল অভিষেকের প্রথম কর্মসূচি। বিনপুরের পড়িহাটে কাঠফাঠা রোদ উপেক্ষা করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন টানা চার ঘণ্টা উপস্থিত থেকে তৃণমূলের প্রতি সোচ্চার সমর্থন ঘোষণা করেছেন। মমতার সৈনিক হিসাবে তাঁদের প্রতি অভিষেকের আবেদন, ‘ধর্ম নয়, আমরা কর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করি। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন গতি পাবে। সবার মুখে হাসি ফুটবে। আর বিজেপিকে ভোট দিলে মৌলিক অধিকারও চলে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ