রাহুল চক্রবর্তী, বিনপুর: বিধানসভা নির্বাচন মিটলেই আম জনতার পকেটে ‘কোপ’ দিতে চলেছে মোদি সরকার। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে দেশজুড়ে ডামাডোল চলছেই। ক’দিন আগে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও ঊর্ধ্বমুখী। এই অবস্থায় মানুষকে সুরাহা দেওয়ার বদলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাড়তি বোঝা চাপাতে তৎপর। যে বিজেপি বারবার সাধারণ মানুষকে এই বিপদের মধ্যে ফেলছে, তাদের কি আদৌ ভোট দেওয়া উচিত? আগাম আশঙ্কা জানিয়ে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের বিনপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন তিনি। তিনটি সভা থেকেই তিনি বিজেপিকে এই প্রশ্নে তোপ দাগেন। বলেন, ‘রান্নার গ্যাসের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,০০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, ভোট শেষ হওয়ার পর দিনই রান্নার গ্যাসের দাম ২,০০০ টাকা এবং পেট্রল-ডিজেল লিটার পিছু ২০০ টাকা হয়ে যাবে।’ চ্যালেঞ্জ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলছি, এখানে এসে মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি দিন যে আগামী পাঁচ বছর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে না। যদি আপনারা এটা করতে পারেন, তাহলে তৃণমূল প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেবে।’ বস্তুত, দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আম জনতার ক্ষোভ টের পেয়ে পেট্রল-ডিজেলের উপর শুল্ক কমাতে কার্যত বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। বিষয়টি স্রেফ চমক বা ভোট-বাজারে সস্তায় হাততালি পাওয়ার কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, ভোট মিটলেই বাংলা তথা দেশের মানুষের কপালে আরও দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে!



