নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদে বিল পাশের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইনে পরিণত হলেও ‘বিকশিত ভারত-জি রাম জি’ নিয়ে মোটেই স্বস্তিতে নেই মোদি সরকার। অথচ মনরেগাকে সরিয়ে আগামী জুন মাস থেকে তা কার্যকর করতে চায় কেন্দ্র। বিরোধী রাজ্যগুলির বিরোধিতার জেরে কীভাবে তা কার্যকর হবে, তা নিয়ে চাপে রয়েছেন গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তাই এবার ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইন নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ‘ব্যবহার’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ডিজিটাল প্রচারে নামছে সরকার।
নতুন আইনকে মাথায় রেখে গ্রামীণ ভারতের গল্প তৈরিতে ১৫-২৯ বছর বয়সিদের ‘রিল’ বানানোর আহ্বান করা হচ্ছে । ৩০-৬০ সেকেন্ডের ভিডিও তৈরি করে তা ‘মাই ভারত পোর্টালে’ আপলোড করতে হবে। সেরা ভিডিও বেছে দেওয়া হবে সম্মান, শংসাপত্র, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ছবি তোলার সুযোগ। যদিও এভাবে সরকার আদৌ কতটা সফল হবে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে সরকার এই মওকায় তরুণ প্রজন্মকে মোদি সরকারের প্রকল্পে পরোক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত।
মহাত্মা গান্ধীর নারেগা (১০০ দিনের কাজে)র আইন বাতিল করেছে কেন্দ্র। গত ১৬ ডিসেম্বর আনা হয়েছে নতুন বিল ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)।’ সংক্ষেপে ভিবি-জি রাম জি। ১৮ ডিসেম্বর সংসদে তা পাশ হয়েছে। নজিরবিহীন দ্রুততায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি স্বাক্ষর করেছেন ২১ ডিসেম্বর। ফলে এখন এটি আইন। কিন্তু কার্যকর করতে ঘাম ছুটছে কেন্দ্রের। তৃণমূল, কংগ্রেস সহ সমগ্র বিরোধীরাই এই আইনের বিপক্ষে। যদিও আইনের স্বপক্ষে প্রচারে নেমেছেন এক রাজ্য থেকে অন্যত্র ছুটে বেড়াচ্ছেন শিবরাজ সিং চৌহান। কিন্তু গরিব শ্রমিকদের তেমন সাড়া পাচ্ছেন না। তাই এখন সরকার নতুন ‘কৌশল’ নিয়েছে।
তরুণ প্রজন্মকে দিয়ে রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে আইনটিকে কার্যকরের পথ প্রশস্ত করতে চাইছে সরকার। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-জি রাম জি-যুবশক্তি, পঞ্চায়েতের অগ্রগতি।’ যুব সমাজকে আহ্বাণ জানানো হয়েছে, ক্যুইজ, ভিডিও চ্যালেঞ্জ ও বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতায়।