Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬

রাজ্যগুলির কাছে শিশুর জন্ম, জমি-বাড়ির মালিকানার ধর্মভিত্তিক তথ্য তলব কেন্দ্রের! সংবিধান অগ্রাহ্য করার অভিযোগ বিরোধী শিবিরের

অনুপ্রবেশের কারণে দেশজুড়ে জনবিন্যাসের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। প্রায়শই এমন অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জনবিন্যাসের পরিবর্তনের ফলে কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরির ঘোষণাও করছিলেন তিনি।

রাজ্যগুলির কাছে শিশুর জন্ম, জমি-বাড়ির মালিকানার ধর্মভিত্তিক তথ্য তলব কেন্দ্রের! সংবিধান অগ্রাহ্য করার অভিযোগ বিরোধী শিবিরের
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অনুপ্রবেশের কারণে দেশজুড়ে জনবিন্যাসের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। প্রায়শই এমন অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জনবিন্যাসের পরিবর্তনের ফলে কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরির ঘোষণাও করছিলেন তিনি। এবার সেই কমিটির কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১৫ বছরে কোন ধর্মের কত শিশুর জন্ম হয়েছে, কোন ধর্মের মানুষের নামে কত গাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে, কোন ধর্মের কত পড়ুয়াকে স্কুলে ভরতি করা হচ্ছে—রাজ্যগুলিকে এসব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে বলেছে ওই কমিটি। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কারা পাচ্ছে, কোন ধর্মের মানুষ কত সম্পত্তি কেনাবেচা করছে, সেই তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। কোথাও আধার, ভোটার বা রেশন কার্ড তৈরির প্রবণতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে, সেই তথ্যও রাজ্যগুলিকে পাঠাতে হবে। আর এতেই ফাঁপরে পড়েছে রাজ্যগুলি। কারণ সংবিধানে যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে, তাতে এভাবে ধর্মের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ নিষিদ্ধ। ফলে সংবিধানকে কার্যত অগ্রাহ্য করে কীভাবে কেন্দ্রের তৈরি কমিটি কীভাবে এমন তথ্য জানতে চায়, তা নিয়ে  সরব  বিরোধীরা। 

Advertisement

এআইএমআইএম সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমরা যখন মোদি সরকারের কাছে মুসলিমদের শিক্ষাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের দাবি করেছিলাম, তখন সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। অথচ অমিত শাহের ডেমোগ্রাফিক কমিশন জানতে চাইছে, কোন ধর্মের মানুষ কতগুলি গাড়ি কিনেছেন।’
হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জেস (এইচএলসিডিসি) নামে ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। সব মিলিয়ে মোট ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর রাজ্যগুলির কাছে চেয়ে পাঠিয়েছে এইচএলসিডিসি। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যগুলিতে তফসিলি উপজাতিদের মধ্যে ধর্মান্তরকরণ সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং এই নিয়ে গোয়েন্দাদের মূল্যায়ণ কী, ডিটেনশন সেন্টার সংক্রান্ত তথ্য। গত ১৫ বছরে রাজ্যগুলিতে কতগুলি মন্দির, মসজিদ, গির্জা তৈরি হয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য ম্যাপিং সংক্রান্ত তথ্য আছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। কোনো জেলায় স্কুলে ভরতির হার বা জন্মহার হঠাত্ বৃদ্ধি হয়েছে কি না বা হয়ে থাকলে তার কারণ কী—এমন তথ্যও পাঠাতে বলা হয়েছে। বেআইনি অভিবাসন রুখতে রাজ্য সরকারগুলির পদক্ষেপের বিষয়ে জানার পাশাপাশি ‘অস্বাভাবিক ধর্মীয় জনবিন্যাস পরিবর্তন’ রুখতে কোনো নতুন আইন তৈরির প্রয়োজন আছে কি না, সেই বিষয়েও পরামর্শ চেয়েছে এইচএলসিডিসি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যেই দেশে জনগণনা শুরু হয়েছে। সেই সেন্সাস প্রক্রিয়াকেই পাশ কাটিয়ে এমন তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। জনবিন্যাস পরিবর্তন, অবৈধ অভিবাসনের মতো বিষয়ে নজর দিতে গিয়ে ভারতে জন্মহার হ্রাস, বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ