Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬

তোলাবাজিতে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বঙ্গ বিজেপির ব্যাখ্যা তলব, হচ্ছে নজরদারি কমিটি

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি।

তোলাবাজিতে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বঙ্গ বিজেপির ব্যাখ্যা তলব, হচ্ছে নজরদারি কমিটি
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু এর মাত্র মাসতিনেকের মধ্যে বঙ্গ বিজেপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে যেভাবে তোলাবাজি এবং অন্যান্য দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে, তাতে রীতিমতো তিতিবিরক্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এসব কী হচ্ছে? বারবার এমন অভিযোগ উঠছে কেন? কোথায় গাফিলতি হচ্ছে? রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে বারবার এসংক্রান্ত বিষয়ের ব্যাখ্যাও চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনকি সামগ্রিক বিষয়ে নজর রাখার জন্য অবিলম্বে ‘ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিং কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বঙ্গ বিজেপিকে। মঙ্গলবার রাতে বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০ আগস্ট দু’দিনের সফরে বাংলায় যেতে পারেন অমিত শাহ। সরকারি কর্মসূচিতেই তাঁর এই সম্ভাব্য বঙ্গ সফর। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে তোলাবাজি, দুর্নীতির মতো বিষয়ে শাহ শমীক ভট্টাচার্যদের কড়া বার্তা দিতে চলেছেন বলেই দাবি রাজনৈতিক সূত্রে।

Advertisement

বাংলায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষাই এই মুহূর্তে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একমাত্র ভাবনা। সদ্য রাজ্যে বিরোধী থেকে শাসক দলে উন্নীত হয়েছে গেরুয়া শিবির। এই সময় যদি কোনো ভুলভ্রান্তিতে দলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়, আগামী দিনে তার ফল ভুগতে হবে। আর তা বিলক্ষণ জানেন দিল্লির নেতারা। সেই কারণে এব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি সহ একাধিক দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যেই বঙ্গ ব্রিগেডের প্রায় ১৫০ জন নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। যদিও বেশ কিছু নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করার পরেও দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনের মধ্যে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, দলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল কিংবা মঙ্গল পাণ্ডের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা হয়েছে বঙ্গপার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের। সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন চলাকালীন শমীকবাবুও একাধিকবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। জানা গিয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট মর্মে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ, বিরক্তি এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দ্রুত এব্যাপারে পদক্ষেপ করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শমীকবাবু নিজে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, জেলায় জেলায় যে নজরদারি কমিটিগুলি তৈরি হবে, সার্বিকভাবে তার মাথায় থাকবেন রাজ্য সভাপতি নিজে। সরাসরি শমীকবাবুর কাছেই জমা পড়বে এসংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট। তিনি নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রাখবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ