Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬

এফসিআরএ বিল: পিছু হটছে কেন্দ্র, সংসদ চত্বরে সম্মুখ-সমরে সরকার-বিরোধী

২০২৬ সালের বাদল অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না। সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদের হইচই, সংসদীয় কাজে বাধাদান এসবই সংসদীয় রাজনীতির অঙ্গ। চিরকালই হয়েছে।

এফসিআরএ বিল: পিছু হটছে কেন্দ্র, সংসদ চত্বরে সম্মুখ-সমরে সরকার-বিরোধী
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের বাদল অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না। সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদের হইচই, সংসদীয় কাজে বাধাদান এসবই সংসদীয় রাজনীতির অঙ্গ। চিরকালই হয়েছে। বিরোধীপক্ষের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও অতীতে একের পর এক বিতর্কিত বিলও পাশ করিয়ে নিয়েছে সরকার। কিন্তু  সংখ্যাধিক্যের শক্তিমান বিজেপি একটি অধিবেশন চলাকালীন বারংবার নানা ইস্যুতে পিছু হটছে, এরকম বেনজির। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল (এফসিআরএ)। ডিলিমিটেশন বিল, মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পেশ করার প্রবল ইচ্ছা এবং প্রয়াস থাকা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনওভাবেই জোগাড় করা নিশ্চিত না হওয়ায় ওই বিল আপাতত ঠান্ডাঘরে পাঠানো হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিট বিতর্কে ইস্তফা দিতে হয়েছে। এবার এফসিআরএ বিল পাশ করিয়ে একের পর এক ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার পর মুখরক্ষা করা যাবে ভেবেছিল সরকার। কিন্তু সেই বিলও পাশ করানো হবে না। লোকসভায় ওই বিল পেশ করে সেটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠাতে চাইছে সরকার। সেইমতোই বিরোধীদের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও বিরোধী জোট চাইছে এই বিতর্কিত বিল প্রত্যাহার করা হোক। অন্যদিকে, সরকার বনাম বিরোধীদের চাপানউতোর আরও তীব্র হল সংসদের মধ্যে।  মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে সরকার-বিরোধী, দু পক্ষের বিক্ষোভ প্রদর্শনে হুলুস্থূল কাণ্ড! সামাল দিতে হিমশিম সিআইএসএফের নিরাপত্তাকর্মীরা। পুরনো সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে উভয়ের হাতেই প্লাকার্ড। একটিতে লেখা রাহুল গান্ধী মাফি মাঙ্গো। অন্যটিতে বিরোধীদের—অমিত শাহ সদন আও। উভয়পক্ষের স্লোগানে সরগরম সংসদ চত্বর। 

Advertisement

সরকার পক্ষের স্লোগান ‘রাহুল গান্ধী মাফি মাঙ্গো’। বিরোধীদের পালটা জবাব,  ‘অমিত শাহ শরম করো।’ যা দেখে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেই ফেললেন, এই প্রথম দেখলাম সরকারপক্ষও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বিজেপির সুরাতের সাংসদ মুকেশ দালাল যখন রাহুল বিরোধী প্লাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন, প্রিয়াঙ্কা তাঁকে ডেকে বলে গেলেন, রাহুল গান্ধী তো ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের উপর সরকারের দমন-পীড়নের সমালোচনা করেছেন। ছাত্রদের সঙ্গে কথাও বলছেন। অমিত শাহজিকে বলুন না সভায় এসে বক্তব্য রাখতে। 
 বিরোধীরা এদিনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। স্রেফ ছাত্র আন্দোলন নয়। আলোচনা করতে হবে রামমন্দিরের প্রণামি চুরি নিয়েও। কিন্তু সরকার রাজি নয়। তাই জট কাটছে না। লোকসভার ওয়েলে নেমেও বিরোধীরা তুলল স্লোগান, চান্দা চোর গদ্দি ছোড়। শোনা গেল, চোর চোর হুটিং। তারই মধ্যেই প্রবল হট্টগোলে বিন্দুমাত্র আলোচনা ছাড়াই পাশ হয়ে গেল দুটি বিল। কেরলের নাম পরিবর্তন করে কেরলম এবং ন্যাশনাল কোঅপারেটিভ ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন সংশোধনী। দুটিই অমিত শাহর মন্ত্রকের বিল। কিন্তু তিনি বিল পেশের সময়ও এলেন না। বিল পাশ করানোর সময়ও  তাঁর দেখা মিলল না সংসদে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ