


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি বছরে রেকর্ড উৎপাদন হবে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। হিসেব বলছে, এবারে গম উৎপাদন হবে ১১৭.৫ মিলিয়ন টন। যা গতবারের চেয়ে ৪.২ মিলিয়ন টন বেশি। দেশের মানুষকে ফ্রি রেশন দিতে ‘প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র জন্য খাদ্যশস্য লাগে বছরে ৫৫ মিলিয়ন টন। সরকার কৃষকের থেকে গম কিনেছে ২৯.৮ মিলিয়ন টন। তার পরেও আচমকাই বৃহস্পতিবার গমের স্টক (মজুত) লিমিট বেঁধে দিল মোদি সরকার। কেন এই পদক্ষেপ—তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ফের কোনও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মজুতদারি বন্ধের এই উদ্যোগ কি না, তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল।
সরকারের নির্দেশ, ট্রেডার্স এবং পাইকারি বিক্রেতারা যেন তিন হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম না মজুত করেন। কোনও সময়ই যেন তাঁদের মজুত ভাণ্ডার এই পরিমাণ ছাড়িয়ে না যায়। খুচরো বিক্রেতাদের বলা হয়েছে, ১০ মেট্রিক টনের (১০ হাজার কেজি) বেশি মজুত না করতে। বিগ চেইন খুচরো বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও তাদের এক একটি দোকানে ১০ মেট্রিক টনের বেশি মজুত রাখা চলবে না। প্রত্যেক শুক্রবার নির্দিষ্ট পোর্টালে বিক্রেতাদের গমের হিসেব আপলোড করতে হবে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্টক লিমিটের এই নিয়ম জারি থাকবে। সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। যদিও উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ হওয়ার দাবির পরেও কেন এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার খরিফ মরসুমে ধান, তৈলবীজ, ডাল সহ ১৪টি ফসলের যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে, তা আদতে মোদি সরকারের জুমলা বলেই তোপ দেগেছে কংগ্রেস। একই সুরে সমালোচনা করেছে অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভাও। সরকার তথ্যের চমকদারি করে কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে বলেই মন্তব্য করেছেন কিষাণ সভার নেতা হান্নান মোল্লা। এআইসিসির মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করতে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ ছিল উৎপাদন খরচের উপর ৫০ শতাংশ। সেই হিসেবে খরিফে ধানের খরচ কুইন্টাল প্রতি ৩ হাজার ১৩৫ টাকা। অথচ সরকার এমএসপি দিচ্ছে ২ হাজার ৩৬৯ টাকা। অর্থাৎ কৃষকের ক্ষতি কুইন্টাল প্রতি ৭৬৬ টাকা।