নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা হচ্ছে রাজ্যে। ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (সিএপিএফ)। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসেই সিএপিএফ জওয়ানরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবেন। প্রসঙ্গত, নির্বাচনী পর্ব শেষে রাজ্যে এখন রয়েছে ৫০ কোম্পানি সিএপিএফ। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কাজ করবেন সিএপিএফ জওয়ানরা। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রতি একের পর এক পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্টকে পাকড়াও করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের (আকিস) দুই সদস্যকেও। ধৃতদের জেরা করে কোচবিহারের দিনহাটা এবং দুই দিনাজপুরের কয়েকটি অংশে আইএসআইয়ের লজিস্টিক সেল এবং কয়েকজন এজেন্ট ও তাদের সহযোগীদের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এমনকি পাহাড়ের কিছু অংশেও পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জাল বিছানোর কাজ শুরু করেছে বলেও খবর পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা বলছেন, মূলত সীমান্তবর্তী দিনহাটাকে ‘ভরকেন্দ্র’ বানিয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাট থেকে ভারত বিরোধী চক্রের ‘হ্যান্ডলার’রা তৎপরতা শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই গত রবিবার রাতে দিনহাটার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম দিঘলটারি থেকে মিঠু রহমান নামে এক পাক চরকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। বাড়তি সিএপিএফ যা রাজ্যে আসছে, তার একটা বড় অংশকে পাঠানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। পাক চর চক্র ভাঙতে তবে কি বড়োসড়ো কোনো অভিযান শুরু হবে রাজ্যে? জল্পনা শুরু হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫০ কোম্পানি অর্থাৎ ৫ হাজারের বেশি সিএপিএফ জওয়ানদের পাঠানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, কালিম্পং এবং কোচবিহারে এবং দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া শহর, হাওড়া গ্রামীণ এবং রানাঘাটে।