


ভোপাল: ‘আমি ফেঁসে গিয়েছি। তুই ফাঁসিস না!’ মৃত্যুর আগে প্রিয় বন্ধুকে এমনই মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ত্বিশা শর্মা। গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পণের দাবিতে অত্যাচার চালাত। যদিও অভিযুক্ত পরিবার তথা মৃতার স্বামী পণের দাবি অস্বীকার করেছেন। এই মৃত্যু রহস্যে নয়া মাত্রা জুড়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে ত্বিশাকে সিঁড়ি দিয়ে ভোপালের বাড়ির ছাদে উঠতে দেখা গিয়েছে। একঘণ্টা পরেই তাঁকে নীচে নামিয়ে আনেন তাঁর স্বামী ও অন্য দু’জন। যদিও ত্বিশার পরিবার পুলিশের কাছে সিটিটিভি সিস্টেমে সময়ের বিভ্রাটের অভিযোগ করেছে।
উচ্চশিক্ষিতা ও ‘মিস পুনে’ ত্বিশা নয়ডার বাসিন্দা। সিনেমাতেও কাজ করেছেন। ভোপালের আইনজীবী সম্রাট সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। কিন্তু বিয়ের পরই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ত্বিশার দিদির কথায়, বোন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল। কথা কম বলত। দেখা করত না আমার সঙ্গে। এরপর ত্বিশা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। অভিযোগ, গর্ভস্থ সন্তানকে নিজের বলতে অস্বীকার করেন সম্রাট। তা নিয়েই শুরু হয় অত্যাচার। বিষয়টা বাড়িতে জানিয়েওছিলেন ত্বিশা। তাঁর পরিবারের দাবি, নয়ডা ফিরে আসার পরিকল্পনাও করছিলেন তিনি।
এরইমাঝে ১২ মে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, ত্বিশা মৃত। ময়নাতদন্তে একে আত্মহত্যা হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এই মৃত্যু অস্বাভাবিক। তাঁর বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ময়নাতদন্তের সঙ্গে অন্য প্রমাণের মিল নেই। নেপথ্যে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আসলে, ত্বিশার শ্বশুর প্রাক্তন বিচারপতি। নবনিধির দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন অপরাধ ধামাচাপা দিতে চাইছে। তাই নতুন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ন্যায়বিচারের দাবিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধরনা দেন ত্বিশার পরিজনরা। তদন্তে গঠিত হয়েছে সিট। ত্বিশার স্বামী ফেরার। সোমবার তাঁর আগাম জামিনে স্থগিতাদেশ দেয় স্থানীয় আদালত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আইনজীবীর পাসপোর্ট বাতিল ও তাঁর সন্ধানে ১০ হাজার পুরস্কার ঘোষণার কথা ভাবছে পুলিশ।