নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ: ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনতে গিয়ে অনেক সময় চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় ক্রেতাদের। অনেক সময় দেখা যায় যে, নির্মাণকারী সংস্থা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করছে না। ফলে ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় ক্রেতাকে। অথচ তাদের কাঁধে চেপে বসে হোম লোনের ইএমআইয়ের বোঝা। ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পাওয়ার আগেই ঋণের মাসিক কিস্তি মেটানোর জন্য গ্রাহকদের চাপ দেয় বিভিন্ন ব্যাঙ্ক। দিল্লি-জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (এনসিআর) রিয়েল এস্টেট সংস্থা ও ব্যাঙ্কগুলির এধরণের অনৈতিক আঁতাত ভাঙতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। কীভাবে এই ঘুঘুর বাসা ভাঙা যায়, তার নীল নকশা করতে সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বিল্ডার-ব্যাঙ্ক অনৈতিক আঁতাত ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ক্রেতাকে। আদালত আরও জানিয়েছে, বিল্ডারদের ঢিলেমির জেরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে গ্রাহকরা আদলতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। প্রত্যেক দিন এমন আবেদন জমা পড়ছে। অথচ এটি বিবেচনা করা আদালতের কাজ নয়।
যদিও এই পরিস্থিতিতে আদালত যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। যে কারণে লক্ষ লক্ষ প্রতারিত ক্রেতার চোখের জল মুছতে শেষ পর্যন্ত ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ‘এই ধরনের ঘটনায় নিশ্চিতভাবে সিবিআই তদন্তের অবকাশ আছে। এই যোগসাজশ একেবারে স্পষ্ট। হাজার হাজার মানুষ কাঁদছে। আমরা তাঁদের চোখের জল মুছতে পারব না। কিন্তু তাঁদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পারি। এক্ষেত্রে কার্যকরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। আর তা করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।’ প্রকল্প ধরে ধরে, নাকি এলাকা ধরে এই তদন্ত করা যেতে পারে— তা জানানোর জন্য সিবিআইয়ের কাছে মতামত জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।



