নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: টেলিগ্রাম অ্যাপে মাঝে মধ্যেই বিজ্ঞাপন ফ্ল্যাশ করত, ‘পেপার ইজ অরিজিনাল’। ‘১০০ শতাংশ জেনুইন পেপার’। কনফার্মড সেট কোয়েশ্চেন পেপার। তারপরই দেওয়া হত কিউ আর কোড। অর্থাৎ গোপনে ডাক্তারি কোর্সের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রি করার চক্র কাজ করেছে এমন নয়। টেলিগ্রামের মতো অ্যাপে খোলাখুলি গ্রুপ খুলে এই অফার দেওয়া হত। ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে তদন্ত সিবিআই শুরু করেছে, সেখানে নেটওয়ার্কের লেনদেন সম্পদ ২০০ কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র থেকে এম স্যারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেরকম এম স্যার একঝাঁক রাজ্যে রয়েছে। কোচিং সেন্টাগুলির মধ্যে রয়েছে গোপন যোগাযোগ। যা চেইন সিস্টেমে চলে। সিবিআই জানতে পারছে, বছরের পর বছর ধরে বারংবার যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, সেটি এমনভাবে হচ্ছে যাতে প্রত্যেকবার একই রাজ্যের একটি দুটি কোচিং সেন্টার অথবা কোনও শিক্ষক কিংবা নিটের সঙ্গে যুক্ত চক্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতি বছর নিত্য নতুন চক্রের জন্ম হয়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, একটি প্রশ্নপত্র সেটের দাম ১০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ক্রমেই জানা যাচ্ছে, মুনাফা আকাশছোঁয়া করার জন্য এমনকি ২০ হাজার টাকাতেও কিছু প্রশ্ন বিক্রি করা হয়। ২০ হাজার থেকে ৪০ লক্ষ টাকা। শুধু এনটিএ অফিসিয়াল চেন্নাই নামক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপই ২০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের লেনদেন করে। এরকম গ্রুপ অনেক রয়েছে। সব মিলিয়ে এক বছরে ২০০ কোটি টাকার চক্র ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে। মহারাষ্ট্রের লাতুরের শিবরাজ মোতেগাঁওকর তথা এম স্যারের রেনুকাই কেরিয়ার সেন্টারে কার্যত লাতুর মডেল চালু করেছিল নিট স্ক্যামে। সোস্যাল মিডিয়ায় যে অনলাইন শিক্ষকদের দেখা যায় নানাবিধ বিষয়ে পরামর্শ, জ্ঞান, উপদেশ এবং পরীক্ষা প্রস্তুতির টিপস দিয়ে থাকে, তাদের নিজস্ব কোচিং ও টিউশন সেন্টার থাকে। রেনুকাই সেন্টারের মতোই বিভিন্ন রাজ্যে গড়ে উঠেছে লাতুর মডেল। যে প্রশ্নপত্র একবার ফাঁস হয়, তৎক্ষণাৎ সেটি চলে যায় এরকম সব সেন্টারে। সিবিআই মনে করছে এই বিারট চক্রের সঙ্গে চুনোপুঁটি থেকে রাঘব বোয়াল নিটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য জাল ছাড়ানো রয়েছে দেশজুড়ে। এক্সাম পেপার লিক ইন্ডাস্ট্রি হু হু করে বাড়ছে।



