Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খিচুড়িতে শুঁয়োপোকা, বিক্ষোভ কলমপাড়া অঙ্গনওয়াড়িতে! মালদহে থাকেন কর্মী, মানা হয় না মেনুর নিয়ম

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খিচুড়িতে শুঁয়োপোকা! আর সেই খাবার দেওয়া হল প্রসূতি এবং শিশুদের। শুঁয়োপোকা নজরে আসতেই শোরগোল।

খিচুড়িতে শুঁয়োপোকা, বিক্ষোভ কলমপাড়া অঙ্গনওয়াড়িতে! মালদহে থাকেন কর্মী, মানা হয় না মেনুর নিয়ম
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খিচুড়িতে শুঁয়োপোকা! আর সেই খাবার দেওয়া হল প্রসূতি এবং শিশুদের। শুঁয়োপোকা নজরে আসতেই শোরগোল। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের কলমপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। খবর পেয়ে সেন্টারে সুপারভাইজার গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। অপরদিকে, এদিন মহেন্দ্রপুর শান্তিপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বাড়ি থেকে সেন্টার সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলমপাড়া সেন্টারের কর্মী দীপ্তি ভট্টাচার্য মালদহে থাকেন। এজন্য সহায়িকা সেন্টার চালান। অভিযোগ, প্রসূতি এবং শিশুদের দেওয়া খিচুড়িতে শুঁয়োপোকা দেখা যায়। খাবার সময় সেটা নজরে আসে। ওই খিচুড়ি শিশু এবং প্রসূতিরা খেলে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারত। এর আগেও পোকা, আরশোলা পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। এবার খিচুড়িতে সেদ্ধ শুঁয়োপোকা। যদিও এদিন ওই কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। সুপারভাইজার রুমি মণ্ডল সেন্টারে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারী সিদ্ধান্ত দাস বলেন, খাবার রান্না করার সময় চাল, ডাল ঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। কর্মী মালদহে থাকেন। দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত সেন্টারে আসেন না। সরকারি মেনু চার্ট মেনে খাবার দেওয়া হয় না। চরম দুর্নীতি হচ্ছে সেন্টারে। মালদহে থাকা ওই কর্মীকে বদলি করে দেওয়া হোক। ওই অঙ্গনওয়াড়ির কর্মী দীপ্তি ভট্টাচার্য বলেন, আজ ছুটিতে রয়েছি। স্বামী অসুস্থ। মালদহে চিকিত্সা করাতে এনেছি। কোনও কারণে হয়তো শুঁয়োপোকা পড়ে গিয়েছে। হেল্পারের নজরে পড়েনি। নিয়মিত নিয়ম মেনে খাবার দেওয়া হয়। ব্যস্ততায় কোনও দিন হয়তো যেতে পারি না। সুপারভাইজার রুমি মণ্ডল বলেন, এই খাবার খেলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্মীর বিরুদ্ধে চিঠি করে সুপারভাইজারকে বিষয়টি জানাব। অপরদিকে, শান্তিপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের কর্মী মুনি কুন্তলা সাহার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। অভিযোগ, সেন্টারের‌ নাম শান্তিপাড়া থাকলেও তিনি মহেন্দ্রপুর নিজের বাড়িতে সেন্টার চালান। রাজ্য সড়ক পার করে সেন্টারে যেতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয় না। সকাল দশটার পরে সেন্টার খোলেন। এগারোটা বাজতেই সেন্টার বন্ধ করে দেন। কেউ দেরি করে আসলে তাকে খাবার দেওয়া হয় না। বিভিন্ন অজুহাতে সেন্টার বন্ধ রাখেন। প্রতিবাদ করতে গেলে অভিভাবকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। সেন্টারটি বাড়ি থেকে না সরালে সমস্যার সমাধান হবে না। সেন্টারের কর্মী মুনি কুন্তলা বলেন, শান্তিপাড়ায় সরকারি ভবন নেই। বাড়িতে কেউ রান্না করতে দিচ্ছে না। তাই নিজের বাড়িতে সেন্টারটি চালাচ্ছি। নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। অভিভাবকরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ সিডিপিও আব্দুস সাত্তারকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি ও মেসেজের উত্তর দেননি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ