কাঠমান্ডু, ২৫ আগস্ট: প্রকৃতির গ্রাসে বিপর্যস্ত নেপাল। হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তর নেপালের রসুয়া জেলা। আজ তিব্বতের দিক থেকে আচমকাই বিপুল জলরাশি ধেয়ে আসে নেপালের ভোতেকোশি নদীতে। মুহূর্তে যা ভয়াবহ আকার নেয়। জলের তোড়ে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় একের পর এক বাড়ি দোকান, সেতু। ভেসে গেছে বহু গাড়ি।
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র বৃষ্টি চলছে তিব্বতে। আর তার জেরেই এই বিপুল জলরাশি আজ ধেয়ে আসে নেপালে। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রসুয়া জেলার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি, মাইলং, সাল্লেতার, শান্তি বাজার, খালতি বস্তি, শোলে সহ ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী এলাকা। রসুয়া এবং নুয়াকোটের মধ্যে একাধিক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রসুয়া। নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, হড়পা বানের জেরে প্রায় ১০০০ এর উপর মানুষ নিখোঁজ। এখনো পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা নেপাল প্রশাসনের।
ইতিমধেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সেনা ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোতে উদ্ধারকাজের জন্য পাঠানো হয়েছে সেনাবাহিনী। তবে বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজও রীতিমতো ব্যাহত হচ্ছে। রসুয়ার হেলিপ্যাড হড়পা বানের জলের তলায় থাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিব্বত থেকে আসা এই ভোতেকোশি নদী নেপাল হয়ে ভারতের বিহারে প্রবেশ করেছে। সেখানে তার নাম গন্ডক। এই নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, কাজের সূত্রে নেপালে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। দিল্লির রেসিডেন্ট কমিশনার অফিসকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।