নিউ ইয়র্ক: দীর্ঘ দিন পর কোর্টে ফিরে দাপটেই এগচ্ছিলেন কেরিয়ারের অষ্টম গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাবের লক্ষ্যে। কিন্তু ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে তাল কাটল কার্লোস আলকারাজের। আমেরিকার বেন শেলটনের কাছে ৭-৬ (৭-৫), ১-৬, ৩-৬, ৬-১, ৭-৬ (১০-৭) সেটে হেরে বিদায় নিলেন দ্বিতীয় বাছাই স্প্যানিশ তারকা। ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্নায়ুর চাপ সামলে বাজিমাত অষ্টম বাছাই শেলটনের। নোভাক জকোভিচের পর আরও এক ইন্দ্রপতনের সাক্ষী থাকল ফ্লাশিং মিডো। বর্ণহীন হল বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামের আসর।
আমেরিকান হওয়ায় গ্যালারির সমর্থন ছিল শেলটনের পক্ষে। তাই বলে আলকারাজ-বধ! কল্পনাও করেননি স্বয়ং শেলটন। তার উপর প্রথম কয়েকটি ম্যাচে রীতিমতো দাপুট জয়ে আত্মবিশ্বাসে ফুটছিলেন আলকারাজ। পরিষ্কার ফেভারিট হিসাবেই কোর্টে নেমেছিলেন স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক টেনিসে তাঁকে চাপে ফেলে দেন শেলটন। তা সামলে প্রথম সেট টাই-ব্রেকারে দখল করেন আলকারাজ। মনে হচ্ছিল, আর তাঁকে আটকানো যাবে না। তবে ঘরের কোর্টে হাল ছাড়েননি শেলটন। পরের দু’টি সেটে তাঁর বিধ্বংসী মেজাজের সামনে এককথায় উড়ে যান সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। খাদের কিনারা থেকে মরিয়া চেষ্টায় চতুর্থ সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান আলকারাজ। এরপর পঞ্চম সেটে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত টাই-ব্রেকারে শেষ হাসি হাসেন শেলটন।
রজার ফেডেরারের পর দ্বিতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসাবে ইউএস ওপেন ধরে রাখতে চেয়েছিলেন আলকারাজ। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হল না। গ্র্যান্ড স্ল্যামের আসরে টানা ১৮টি ম্যাচ জয়ের দৌড়ও থামল। সেমি-ফাইনালে শেলটনের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বদেশীয় ফ্রান্সিস টিয়াফো। প্রথম দু’সেট খুইয়েও তিনি ৫-৭, ৬-৭, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ ব্যবধানে হারান আলেক্স মিকেলসেনকে।
মহিলাদের সিঙ্গলসের শেষ চারে উঠেছেন তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলা। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ৩-৬, ৬-৪, ৬-৩ ব্যবধানে তিনি জেতেন এমা নাভারোর বিরুদ্ধে। সেমি-ফাইনালে তিনি মুখোমুখি হবেন শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কার। ২৮ বর্ষীয়া বেলারুশ তারকা শেষ আটের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়েছেন লিন্ডা নোসকোভাকে।