শর্ত মানলেই খুলতে পারে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ, টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ে ‘সেবি’
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শহরে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ফের চালু হবে। সেই কথা রাখতে এবারের রাজ্য  বাজেটে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই শেয়ার বাজার চালুর বিষয়ে পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শেষ পর্যন্ত কি তা চালু সম্ভব হবে? শনিবার কলকাতায় এসে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া বা সেবি চেয়ারম্যান তুহিনকান্ত পান্ডে বলেন, ‘বেশ কিছু শর্ত মানলে ফের নতুন করে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু করা সম্ভব।’ তবে একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘যেভাবে প্রযুক্তি বদলেছে, তাতে আঞ্চলিক শেয়ার বাজারগুলি কি আদৌ সুষ্ঠুভাবে চলবে?’

Advertisement

ভারত চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান জানান, ২০০৫ সালে সেবি নিয়ম করে দেয়, দুবছরের মধ্যে সব এক্সচেঞ্জকে তাদের ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্টের কাজ আলাদা ক্লিয়ারিং কর্পোরেশনকে দিয়ে দিতে হবে। ২০০৮ সালেও ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ সেটা করতে না পেরে সেবির কাছে ছাড় চাইলে তা দেওয়া হয়। ২০১২ সালে নতুন নিয়মে বলা হয়, যাদের বছরে গড় লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার কম, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কলকাতা এক্সচেঞ্জ আবার ছাড় চাইলে তা সেবি খারিজ করে। তখন কলকাতা এক্সচেঞ্জ কলকাতা হাইকোর্টে যায়। ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে কলকাতা এক্সচেঞ্জের নিজস্ব লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম সি-স্টারে লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গড় লেনদেন নেমে আসে মাত্র ৯০ কোটি টাকায়। অথচ ব্যবসা চালাতে গেলে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন বাধ্যতামূলক। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ নিজেই সেবির কাছে এক্সিটের জন্য আবেদন করে। তত দিনে দেশের অন্য প্রায় সব আঞ্চলিক এক্সচেঞ্জ বন্ধ হয়ে গেছে। 
তাহলে উপায়? চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই শেয়ার বাজার ফের চালু করতে হলে সব শর্ত পূরণ করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম একশো কোটি টাকার সম্পদ ও বছরে গড়ে এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন। অনলাইন স্ক্রিন ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা থাকতে হবে। অনলাইনে নজরদারি এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে, যা যথেষ্ট কঠিন শর্ত। সারা দেশে ট্রেডিং সদস্যদের নেটওয়ার্ক থাকতে হবে। ব্রোকারদের পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে। আলাদা ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন তৈরি করতে হবে বা অন্যের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।’ এগুলি একলপ্তে করা যে কঠিন, তা বুঝিয়েছেন চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, ‘এখন মোবাইল ফোনেই লেনদেনসহ সবকিছু হয়। তাই আঞ্চলিক শেয়ার বাজারের প্রয়োজনীয়তাই প্রশ্নের মুখে। নিয়ম মেনে এক্সচেঞ্জ শুরু হতেই পারে। কিন্তু তা আদৌ লাভজনক হবে কি না, খতিয়ে দেখা জরুরি। লগ্নিকারীরা সেই শেয়ার বাজারেই আগ্রহী, যেখানে কেনাবেচার বহর অনেক বেশি।’