মুম্বই: বাজেট বহির্ভূত অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা ব্যয়। কোথায় খরচ হয়েছে এই বিশাল অর্থ? মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে মেলেনি সদুত্তর। বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ ঘিরে বড়ো ধরনের বেনিয়মের ইঙ্গিত ক্যাগের। স্টেট ফিন্যান্সেস অডিট রিপোর্টে ক্যাগ বলেছে, ২০২৪-২৫ সালে মহিলাদের মাসিক ভাতা প্রদানের এই প্রকল্পের বাজেট অনুমান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ‘উল্লেখযোগ্য অসংগতি’ রয়েছে। অতিরিক্ত সাড়ে তিন হাজার কোটির খরচ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখা নেই। ক্যাগের এই ‘বিপদ সংকেত’ যে নিছক কাকতালীয় নয়, তা সামনে এসেছে খোদ মহারাষ্ট্র সরকারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াতেই। অনিয়মের অভিযোগে শোরগোলের মধ্যেই এই প্রকল্প থেকে এবার ৯২ লক্ষের বেশি নাম (সবচেয়ে বেশি বিদ জেলায়) বাদ পড়ছে। বিতর্কের মুখে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ধরা পড়েছে, মোট সুবিধা প্রাপকের (২ কোটি ৪০ লক্ষ) অনুমানিক ৩৮ শতাংশই ‘অযোগ্য ও ভূতুড়ে’ অ্যাকাউন্ট! শর্ত লঙ্ঘন করে মাসের পর মাস টাকা ঢুকেছে অসংখ্য সরকারি কর্মী, এমনকি প্রায় ২৯ হাজার পুরুষের অ্যাকাউন্টেও।
এদিকে, ক্যাগের রিপোর্ট ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেসের তোপ, ‘লড়কি বহিন যোজনার নামে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। ক্যাগ রিপোর্টে যোজনার আর্থিক ব্যবস্থাপনার তদারকিতে বড়োসড়ো খামতি ধরা পড়েছে। প্রকল্পের জন্য ২৯ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার ৩ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা বেশি খরচ করেছে। বাজেটের চেয়ে বেশি এই খরচের কোনো হিসাব সরকারের কাছে নেই।’ উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের এনডিএ সরকার ২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ‘লড়কি বহিন যোজনা’ চালু করে। এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলার অ্যাকাউন্টে মাসে দেড় হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। তবে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মী, আয়কর প্রদানকারী, সুনির্দিষ্ট অন্য কিছু প্রকল্পের সুবিধাভোগী ও পরিবারের বার্ষিক উপার্জন আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হলে এই ভাতা মিলবে না। যদিও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় উঠে আসছে অনিয়মের ভূরি ভূরি ঘটনা। দেখা যাচ্ছে, বাদ পড়া ৯২ লক্ষের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই (প্রায় ৬২ লক্ষ বা ৬৭ শতাংশ) বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি নেই। এইসব ‘ভূতুড়ে’ অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি ‘পুরুষ’ লড়কি বহিন ধরা পড়েছে প্রায় ২৯ হাজার (০.৩১ শতাংশ)। পারিবারিক উপার্জন আড়াই লক্ষের বেশি এমন প্রাপকের সংখ্যা ১৬ লক্ষ (১৭ শতাংশ)। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত এইসব অ্যাকাউন্টে প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে ঢুকেছে সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।