সংবাদদাতা, বর্ধমান: ২০২৬–’২৭ ক্রিকেট মরশুমে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের নথিভুক্ত করার জন্য বেশকিছু তথ্য জমা দিতে বলেছে সিএবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সেসব তথ্য সিএবিতে জমা করতে হবে। প্রতিটি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার জন্য ৩০জন খেলোয়াড়ের নাম ও তথ্য জমা দিতে বলেছে। যা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ক্রিকেটারদের তথ্য কীভাবে জমা পড়বে, কে জমা দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিএবির চাওয়া তথ্য জমা দিতে না পারলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তথ্য জমা না পড়লে সিএবির প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারে জেলা। ফলে, জেলার ক্রিকেটাররা রাজ্যস্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ হারাবেন। ক্রীড়া সংস্থায় এখন কোনো কমিটি নেই। এমনকি, ক্রীড়া সংস্থার সোসাইটি অ্যাক্টে রেজিস্ট্রেশনও নেই। ফলে, কে সিএবিতে তথ্য জমা দেবে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক খেলোয়াড় বাছাই করবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন কর্মকর্তারা কেউই এনিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। বিষয়টি প্রশাসন দেখবে বলে জানিয়েছেন তাঁদের কেউ–কেউ। বেশ কয়েকমাস আগে জেলা ক্রীড়া সংস্থার শেষ সাধারণ সভা হয়ে গিয়েছে। সেই সভায় পরবর্তী সাধারণ সভার দিন স্থির করা হয়নি। যে কারণে সাধারণসভা এখনো হয়নি। ক্রীড়া সংস্থার কাজকর্ম পরিচালনার জন্য তৎকালীন জেলাশাসক একটি কমিটি গড়ে দেন। জেলাশাসক পদাধিকারবলে ক্রীড়া সংস্থার কর্মসমিতির সভাপতি। কিন্তু, সাধারণ সভার দিন ঘোষণা না করেই জেলাশাসক ১১জনের একটি অন্তর্বর্তী কমিটি গড়ে দেন। কমিটিতে তৎকালীন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক ছাড়াও শাসক দল ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা ঠাঁই পান। বিধানসভা ভোটের পর ক্রীড়া সংস্থার সাধারণসভা ডাকার পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন শাসক দলের। যদিও জেলাশাসকের অন্তর্বর্তী কমিটি গড়াকে চ্যালেঞ্জ করে বর্ধমান আদালতে মামলা হয়েছে। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। ক্রীড়া সংস্থার সংবিধান অনুযায়ী, সিএবি, আইএফএ সহ অন্যান্য রাজ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার কথা সেক্রেটারির। সেক্রেটারি না থাকায় সিএবিতে কেউ জেলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না। গত ২৩ জুন সিএবির ডাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি ও প্রতিনিধিদের নিয়ে ডাকা সভায় বর্ধমানের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। সিএবির সেই সভায় বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার জন্য ৩০জন খেলোয়াড়ের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও আধার আপডেট সহ বিভিন্ন তথ্য জেলা সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিএবির নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ৩০জন খেলোয়াড়ের তালিকা, তাঁদের মোবাইল নম্বর ও আধার কার্ড জমা দিতে বলা হয়েছে। বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্ষেত্রে কোনো কমিটি না থাকায় খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট সাব কমিটির খেলোয়াড় বাছাই করার কথা। খেলোয়াড় বাছাই করে তাঁদের সম্পর্কিত তথ্য সিএবিতে জমা করার কথা সেক্রেটারির। কিন্তু, ক্রীড়া সংস্থায় এখন কোনো কমিটিই নেই। স্বাভাবিকভাবেই কার মাধ্যমে সিএবিতে খেলোয়াড়দের নামের তালিকা ও তথ্য জমা পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।



