নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কামারহাটির ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেল করে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের শহর সভাপতি তথা কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে কামারহাটি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ সাহার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা সরব হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসাবে পরিচিত ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। যদিও ওই তৃণমূল নেতা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রৌণক রক্ষিতের বাড়ি ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। বিশ্বজিৎ সাহা বর্তমানে বেলঘরিয়া টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজিতের ছায়াসঙ্গী ছিলেন রৌণক। অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ওই কাউন্সিলার তাঁর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। কখনও ব্যবসা দেওয়ার আছিলায়, আবার কখনও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা নিয়েছেন বিশ্বজিৎ। রৌণক বলেন, বিশ্বজিৎ যে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেন, তার দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। তিনিই সেটি কিনে দিয়েছেন। এখনও সেই ইএমআই তাঁকেই গুনতে হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তাঁকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়েছেন কাউন্সিলার। রৌণকের পাশাপাশি আরেক ব্যবসায়ীও বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, গত বছর দুর্গাপুজো ও বিজয়া সম্মিলনি উপলক্ষ্যে বিশ্বজিতের অনুষ্ঠানে লাইট ও মাইক ভাড়া দিয়েছিলাম। সেই বাবদ এখনও ৮৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বারবার তাগাদা দিলেও সেই টাকা দেননি কাউন্সিলার। এছাড়াও এলাকার আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তাঁরা এতদিন মুখ খুলতে ভয় পেতেন। এখন সরকার পরিবর্তন হওয়ায় তাঁরা একে একে সরব হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ সাহা। তাঁর দাবি, আমি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এলাকার মানুষ জানেন, আমি কেমন লোক। আমি কেন অন্যের থেকে ফোন নিয়ে ব্যবহার করব? আর দুর্গাপুজোর টাকা বকেয়া থাকলে তিনি পুজো কমিটিকে সেসব বলুন। আমাকে কেন দায়ী করা হচ্ছে? সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্রের বক্তব্য, এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের শিখণ্ডি করেই তৃণমূলের কাউন্সিলার বা নেতারা এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন দিনের পর দিন। এখন সরকার বদল হওয়ায় তাঁরা ধোয়া তুলসীপাতা সাজতে চাইছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই অপরাধী।



