


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘তোলা দেব না’। তোলাবাজের সামনেই বুক চিতিয়ে বলেছিলেন উস্তির নিখিলকুমার সাহা। মুখের সামনে প্রত্যাখান পছন্দ হয়নি তোলাবাজের। তাই কোমর থেকে পিস্তল বের করে সোজা গুলি। নিখিলবাবুর বুক ফুটো হয়ে সেই গুলি আটকে গিয়েছিল মেরুদণ্ডের সেকেন্ড ভার্টিব্রা’য়! মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও গত তিন বছর ধরে সেই ছোড়া গুলি আটকে রয়েছে তাঁর মেরুদণ্ডে! অবশেষে ওই খুনের চেষ্টার ঘটনায় তোলাবাজ রেজাজুল লস্করকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল ডায়মন্ডহারবার আদালত। শরীরে বুলেট নিয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন নিখিলবাবু। এই রায়ে তিনিও খুশি। এই মামলার সরকারি পক্ষের বিশেষ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, রেজাজুল লস্কর ওরফে ছোটো মাতাল এলাকার কুখ্যাত তোলাবাজ ছিল। শুধুমাত্র তোলা না দিয়ে প্রতিবাদ করার জন্য সে নিখিলবাবুকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করে। যাওয়ার সময় বোমাও ছুড়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গুলি করার ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছিল। বুধবার আদালত তাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এদিন যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেছে। এই সাজা ডায়মন্ডহারবারের ইতিহাসে কার্যত প্রথম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ৫ মার্চ। উস্তি থানার হটুগঞ্জ বাজারে মুদির দোকান নিখিলকুমার সাহার। ওইদিন রাত ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ রেজাজুল তাঁর দোকানে যায়। সেখানে কাছ থেকে নিখিলবাবুর বুকে গুলি করে। প্রথম গুলিটি মিস হলেও দ্বিতীয় গুলিটি তাঁর বুক ভেদ করে মেরুদণ্ডে গিয়ে আটকে যায়। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ২৫ দিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরেন নিখিলবাবু। তিনি প্রাণে বাঁচলেও তাঁর শরীর থেকে বুলেট বের করা যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রেজাজুলকে গ্রেপ্তার করে। ডায়মন্ডহারবার আদালতে সেই মামলা চলছিল।
বিশেষ আইনজীবী বিভাসবাবু বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, শরীরে আটকে থাকা বুলেট বের করা হলে যে কোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। তাই সারাজীবন তাঁকে শরীরে ওই বুলেট নিয়েই সাবধানে ঘুরে বেড়াতে হবে! তাও সাজা শুনবেন বলে ওই শরীর নিয়ে তিনি আদালতে এসেছিলেন। আমরা ধৃত তোলাবাজের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তুলেছিলাম। এটা শুধু খুনের চেষ্টা নয়। নিখিলবাবুকে অর্ধমৃত করে দেওয়া হয়েছে। আদালত যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করায় নিখিলবাবুও হাসিমুখে ফিরে গিয়েছেন। এতবড় অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় আমরাও খুশি।