


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বিধাননগর: শুক্রবার সকালে শাসনের খড়িবাড়ি সংলগ্ন রাজারহাট রোডে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল যাত্রী বোঝাই বাস। দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা থেকে করুণাময়ীগামী ওই যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজ ভেঙে নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। তাতে কমবেশি প্রায় ৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ ক’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে ওই রোডে তীব্র যানজটও তৈরি হয়। ওই এলাকাটি রাজারহাট থানার অন্তর্গত। তবে, রাজারহাট থানার সঙ্গে শাসন থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি রাজারহাট ২১১ নম্বর রোড ধরে রাজারহাটের দিকেই যাচ্ছিল। খড়িবাড়ির কাছে হাড়োয়া খাল এলাকায় বাসটি আমচকা নিয়ন্ত্রণ হারায়। ডিভাইডার ভেঙে যাত্রী সহ বাসটি খালে পড়ে যায়। চালকের দিকে ডানদিকে বাসটি উল্টে পড়ে। খালে জলও ছিল। বাসটি অর্ধেক অংশ প্রায় ডুবে যায়। ভিতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। অনেকে উপরের জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। বাসটি ডানদিকে উল্টে পড়ায় গেট উপরের দিকে ছিল। তাতে উদ্ধারকার্যে সুবিধা হয়েছে।
তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার অন্যান্য গাড়ি থেকেও লোকজন বেরিয়ে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পুলিশও। যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাসটি বেপরোয়াভাবে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে রেষারেষিও করছিল। তার জেরেই ব্রিজে ওঠে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ডানদিকের গাড়োয়াল ভেঙে নীচে পড়ে যায়। গতি কম থাকলে গাড়োয়ালে ধাক্কা লেগে বাসটি থেমে যেত। বাসের সমস্ত যাত্রীদের উদ্ধার করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ক্রেনের সাহায্যে নয়ানজুলি থেকে ওই বাসটি তুলে রাজারহাটে পাঠানো হয়। সঠিক কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি বেপরোয়া গতির জের, তা খতিয়ে দেখছে রাজারহাট থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তায় প্রতিদিনই সকালে বহু বাসের মধ্যে রেষারেষি চলে। সকালের রাস্তা খালিও থাকে। তাতে গতি আরও বেড়ে যায়। যাত্রী তুলতে গিয়ে প্রায়ই চালকরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। দীপেন্দু কারক নামে এক আহত যাত্রী বলেন, আমার বাড়ি দেগঙ্গার বেড়াচাঁপায়। সল্টলেকে অফিসে যাচ্ছিলাম। বাসটি ভর্তিই ছিল। একটা অন্য বাসকে পাশ দিতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। হঠাৎ, দেখলাম, বাসটি খালে পড়ে গেল! আমার খুব একটা বেশি লাগেনি। তবে অনেকেই আহত হয়েছেন।