Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ইংলিশবাজারের ‘বুড়ি কালী’

ইংলিশবাজারের ‘বুড়ি কালী’
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০

 ইংলিশবাজার শহরের অন্যতম ব্যস্ত স্থান রথবাড়ি। সেখানেই রয়েছে বুড়াবুড়িতলা। যার স্থান মাহাত্ম্য স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে ফেরে। কারণ মা কালী এখানে পূজিতা হন ‘বুড়ি কালী’ হিসেবে। ‘বুড়া’ অর্থাৎ শিব এবং ‘বুড়ি’ অর্থাৎ মা কালী এখানে যৌথ অধিষ্ঠান করেন বলেই এই নামকরণ বলে মত স্থানীয়দের। বুড়াবুড়িতলার এই কালী মন্দির অনেকটা জহুরা কালী মন্দিরের ধাঁচের। এখানে মা কালীর মুখাবয়ব রয়েছে। আছে সিঁদুর রঞ্জিত স্তূপও। সেটিই মা কালীর অধিষ্ঠান বলে ভক্তদের বিশ্বাস। তবে, ঠিক কতদিন ধরে এই পুজো হয়ে আসছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য অবশ্য পাওয়া যায় না। বুড়াবুড়িতলার প্রবীণ বাসিন্দা রামপ্রসাদ ঘোষ জানালেন, অন্তত দেড়শো বছর আগে এই পুজো শুরু হয়েছিল। ঘন জঙ্গল ও জলায় পরিপূর্ণ ছিল বলে এলাকাটি ছিল ডাকাত ও দস্যুদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা। সম্ভবত তাদের হাতেই বুড়াবুড়িতলায় কালী পুজোর সূচনা। প্রাচীন এই মন্দিরে পূজিতা দেবী কালী ভক্তজনের আকুতি শুনে মনস্কামনা পূরণ করেন বলে বিশ্বাস। সেই কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জাগ্রত। আগে এই মন্দিরে পুজোর ভার ছিল সুকুমার ঠাকুরের উপর। তারপর প্রায় চার দশক ধরে এই মাতৃমূর্তির আরাধনা করে আসছেন চন্দন ঠাকুর। জহুরাতলার মতো এখানেও বৈশাখ মাসের শনি ও মঙ্গলবার বিশেষ পুজো হয়। এছাড়া কার্তিক মাসের অমাবস্যায় শ্যামাপুজোর দিনও বুড়াবুড়িতলায় বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। পুজোয় পশুবলির রীতি রয়েছে। ছাগবলির সঙ্গে ভেড়া, পায়রা বলি দেওয়া হয়। মালদহ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ বুড়াবুড়িতলায় ছুটে আসেন মা কালীকে পুজো দিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে দেবীর এক সুদৃশ্য মন্দির নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তা সম্পন্ন হলে ভক্তসমাগম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে অভিমত স্থানীয়দের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ