Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ার প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্রে বুলডোজার, উচ্ছেদ ৩৫ গুমটি, যানজট মুক্তির আশা

হাওড়ার প্রশাসনিক কেন্দ্রে ৩৫টি বেআইনি গুমটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। যানজট কমানোর জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

হাওড়ার প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্রে বুলডোজার, উচ্ছেদ ৩৫ গুমটি, যানজট মুক্তির আশা
  • ৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বুধবার শহরের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্রে দীর্ঘদিনের দখলদারির বিরুদ্ধে বড়ো পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। হাওড়া জেলা হাসপাতাল, নিউ কালেক্টরেট ভবন সংলগ্ন বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণিতে প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ফুটপাত দখল করে থাকা একাধিক বেআইনি গুমটি উচ্ছেদ করা হয়। প্রশাসনের দাবি, এই উচ্ছেদের ফলে দীর্ঘদিনের পার্কিং ও যানজটের সমস্যা অনেকটা কমবে। পাশাপাশি স্বস্তি পাবেন হাসপাতাল, আদালত এবং প্রশাসনিক দপ্তরে আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

Advertisement

দুপুরে হাওড়া সিটি পুলিশের বিশাল বাহিনী বুলডোজার নিয়ে বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণিতে হাওড়া জেলা হাসপাতালের সামনে এবং হাওড়া পুরসভার সামনে মহাত্মা গান্ধী রোডে অভিযান চালায়। প্রায় ৩৫টি বেআইনি গুমটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ওই এলাকায় ফের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এখনও যেসব বেআইনি দখল বা অস্থায়ী নির্মাণ রয়েছে, সেগুলিও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে সম্পূর্ণ এলাকা দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুন দখলদারদের নোটিস দিয়ে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও গুমটি না সরানোয় এদিন বুলডোজার দিয়ে সেগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। হাওড়া জেলা হাসপাতাল, হাওড়া কোর্ট, নিউ কালেক্টরেট ভবন, এসিপি সেন্ট্রাল-১ অফিস, মহিলা থানা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণি, মহাত্মা গান্ধী রোড এবং চার্চ রোডে অবিন্যস্ত গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল ও গুমটি দোকানের কারণে নিত্যদিন তীব্র যানজট তৈরি হতো। সেই ভিড়ের মধ্য দিয়েই হাসপাতালে ঢুকত অ্যাম্বুল্যান্স, অভিযুক্তদের কোর্টে নিয়ে যেত পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং রাস্তার দু’পাশে নিয়ন্ত্রিত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে বহুদিনের যানজটও অনেকটাই কমবে। এমনকি মঙ্গলাহাটে রাস্তা দখল করে বসা অস্থায়ী ব্যবসায়ীরাও ইতিমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশ মানছেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উচ্ছেদের পর গোটা এলাকায় সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হবে। সমস্ত দেওয়াল নতুন রঙে সাজিয়ে সেখানে সরকারি সচেতনতামূলক দেওয়াল লিখন এবং ওয়াল আর্ট করা হবে। ফুটপাতের ধারের নর্দমাও ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের আশা, এতে একদিকে যেমন শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকাটির সৌন্দর্য বাড়বে, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা ও মূত্রত্যাগের মতো সমস্যাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ