বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বজবজের। সাহিত্য থেকে শিল্প— নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে রয়েছে বহু স্মৃতি। বহু বিশিষ্ট স্থান রয়েছে এলাকা জুড়ে। সেই সব ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাইছে পুরসভা। এজন্য এই সব জায়গাকে চিহ্নিত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে ভাবনা চিন্তাও করছে পুর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্বে ইংরেজদের গুলিতে বজবজে শহিদ হয়েছিলেন বাবা গুরুদীপ সিং ও তাঁর অনুগামীরা। পাশাপাশি বিবেকানন্দ, চৈতন্য মহাপ্রভু, সুভাষচন্দ্র বসু, পন্ডিত জওহরলাল নেহরু, নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের পদধূলিতে ধন্য হয়েছে বজবজ। সাধক কমলাকান্তের পূজিত কষ্টিপাথরে তৈরি খুকি মায়ের শিবহীন বিরল মূর্তিও বজবজে রয়েছে। সতীপীঠ ফুল্লরার সাধক স্থানীয় চিত্রগঞ্জ কালীবাড়িতে দীর্ঘদিন ছিলেন। ভারতের প্রথম জুটমিল তৈরি হয় বজবজ।
পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, বজবজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। আমার বাবা নৃপেন দাশগুপ্ত এবং গণেশ ঘোষ বজবজের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করতেন। বাবার লেখা ডায়েরি এবং গণেশবাবুর বই থেকে পাওয়া নথি ও লেখা ধরেই এগোচ্ছি। সেই সূত্রে তিনি আরও জানান, স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে বিজয়ী হয়ে শিকাগো থেকে ফিরে প্রথম বজবজের মাটিতেই পা রেখেছিলেন। রাত্রীবাস করেছেন পুরাতন বজবজ রেল স্টেশনে। তাঁর সেই চেয়ার এখনও আছে। ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসেবে সুভাষচন্দ্র বসুর এই বজবজে হাতে খড়ি। তাঁর খাওয়া রুপোর কাপ-প্লেট এখনও রাখা আছে স্মৃতি হিসেবে। মহাপ্রভু চৈতন্য গঙ্গা পেরিয়ে বজবজের রাস্তা দিয়ে নগর সংকীর্তণের জন্য গিয়েছেন। কাজি নজরুল ইসলাম অনেকদিন বজবজের কয়লা মোড়ে প্রভাবতী দেবীর বাড়িতে ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরদিন বজবজ পুরসভার টাউনহলে কবির স্মরণসভায় নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা কবিতা পড়ে শোনান। গানও গেয়েছিলেন। সেই সব কাহিনি তুলে ধরা হবে পুরসভার উদ্যোগে। কামাগাতামারু স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করতে জওহরলাল নেহরু এসেছিলেন বজবজে। পুর চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এগোচ্ছি।