Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বসিরহাটে গুলিকাণ্ডে নয়া মোড়, লাখ টাকার বরাতে একদিনেই খুন ব্যবসায়ীকে, জেরায় কবুল ধৃতদের

বসিরহাটে গুলিকাণ্ডে নয়া মোড়, লাখ টাকার বরাতে একদিনেই খুন ব্যবসায়ীকে, জেরায় কবুল ধৃতদের
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: চুক্তি হয়েছিল, খুন করলেই মিলবে লাখ টাকা। তবে, বেশি সময় নেওয়া যাবে না। তিনদিনের মধ্যে নিকেষ করতে হবে আনন্দ সরকারকে। বরাত পাওয়ার একদিনের মধ্যেই কাজ সেরে ফেলে দুই ‘সুপারি কিলার’। অপারেশন শেষে আততায়ীদের সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিসের তৎপরতায় দেশ ছাড়ার ছক বানচাল হয়ে যায়। শ্যুট আউটের এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিসের জালে ধরা পড়ে যায় দুই ‘সুপারি কিলার’ ফারুক বিশ্বাস ও জাকির গাজি। বসিরহাট পুলিসের দাবি, জেরায় খুনের কথা কবুল করেছে তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য গোপন রেখেছে তারা। এর পিছনে বড়সড় অভিসন্ধি থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
বসিরহাট থানার ইটিন্ডা-পানিতোর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাকুয়াদহর বাসিন্দা বছর পঁয়তাল্লিশের আনন্দ সরকার ছোটখাট দোকান ও জমিজমা সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত সোমবার রাত ১০টা নাগাদ তিনি বাড়িতেই ছিলেন। সেই সময় তাঁকে ফোন করে এক ব্যক্তি বাইরে ডাকে। বাড়ির লাগোয়া একটি মাঠে তাঁকে নিয়ে গিয়ে মাথায় গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। আনন্দ এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর ফোনের কললিস্ট ধরে ‘সুপারি কিলার’ ফারুক বিশ্বাস ও জাকির গাজিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারা ‘শার্প শ্যুটার’ বলে পরিচিত, এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাদের নামে অন্যান্য থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি এক বিঘা জমি নিয়ে আনন্দের সঙ্গে এক জমি কারবারির অশান্তি চলছিল। তাই পথের কাঁটা আনন্দ সরকারকে খুন করে রাস্তা সাফ করার চেষ্টা করছিল সে। একারণেই এই দুই ‘সুপারি কিলার’কে ভাড়া করা হয়েছিল। গত রবিবার খুনের বরাত পাওয়ার একদিনের মধ্যেই আততায়ীরা তাদের লক্ষ্য পূরণ করে। খুনের জন্য ওই জমি কারবারির সঙ্গে ফারুক ও জাকিরের এক লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। তারা কিছু টাকা অগ্রিমও পেয়েছিল। কথা ছিল, ‘অপারেশন’ হয়ে গেলে মিলবে বাকি টাকা। তার আগেই পুলিসের জালে ধরা পড়ে যায় তারা।
জানা গিয়েছে, দুই আততায়ীই আনন্দের কমবেশি পরিচিত। যে আনন্দকে ফোন করে ডেকেছিল, সেও তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিল। যাতে আনন্দের পরিবার তাদের সহজে সন্দেহ করতে না পারে। কিন্তু ফোন কলই কাল হল। ওই ফোনের সূত্র ধরেই দুই ‘সুপারি কিলার’কে ধরা গিয়েছে। বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ‘গোটা বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। এখনই এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। তবে মোবাইল উদ্ধারের পাশাপাশি যে বন্দুক থেকে গুলি করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা গিয়েছে। যে জমির কারবারি ‘সুপারি কিলার’দের ভাড়া করেছিল, তার খোঁজ চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ